হিমের পরশ মফস্বলের রাস্তাঘাটে,
কুয়াশাতে ডুব দিলো ঠিক ক্লান্ত মাঠে
আকাশ প্রদীপ পথ খোঁজে রোজ সন্ধ্যা হলে;
শোনো হেমন্তকাল বিষণ্ণতার গল্প বলে।
ভাঙা ইঁটের পাঁজর শোনায় রূপকথারা,
মহাকালের গল্প জাগে তন্দ্রাহারা
ধূলোয় জাগে কতো রক্ত অশ্রু ও ঘাম
শতাব্দীকালের প্রিয়ার সেই ডাকনাম।
স্ট্রিটলাইটের নীচে ধোঁয়া ঘনিয়ে এলে;
শোনো হেমন্তকাল বিষণ্ণতার গল্প বলে।।
Saturday, 18 November 2017
বিষণ্ণতার গল্প বলে
Saturday, 11 November 2017
শিবঠাকুরের গান
চরক অথবা রাসপূর্ণিমা
শিবরাত্তির নিয়ে,
চলমান শিব একলা আসেন
গাজনের গান গেয়ে।
শহরতলি বা মফস্বলে,
দোকান বাজার হাই ইস্কুলে,
একলা ঘুঙুর পায়ে নেচে যায়
গাজনের গান গাহি,
মুসলমানের দোরে ভোলানাথ
বলে ভিক্ষাং দেহি।
জল না পানি কোনটা বড়
লড়ে শহরের মানুষ,
পেটের জ্বালায় ভোলে ভোলানাথ
এসবের নেই হুঁশ।
কে বা অচ্ছুৎ কে পুণ্যবান
মাথা ঘামাচ্ছে এরা,
চলমান শিব হেসে বলে ওঠে
"আহা! বেচারীরা।''
পিচ গলে ঠিক শহরের বুকে
ব্যস্ত মধ্যদুপুর,
ট্র্যাফিকের হর্ণ ছাপিয়ে বাজছে
মহেশ্বরের ঘুঙুর!
এসি গাড়ি কাচ তোলা জানলায়
কেউ শুনছেনা তাকে,
একা নেচে নেচে গেয়ে যায় ভোলা
কে কার খবর রাখে?
দেশটা পুড়ছে গরু আর রামে
তার কীইবা যায় আসে?
নিজে বাঁধে গান নিজেকে শোনায়
আপনমনেই হাসে!
ফুটপাতে যারা পায়না খেতেও
নেই ঘর মাথা গোঁজার;
সেইসব ছোট ছেলেমেয়েরাই
তাকে ঘিরে একাকার!
দুপুর রোদে ডমরু বাজিয়ে
রাসের গান গাহি,
সংখ্যালঘুকে আজ ভোলানাথ
বলে ভিক্ষাং দেহি।।
বিরাট কোহলির গান
আকাশটাকে ছোঁয়ার মতো
শূণ্যেতে দু'হাত তুলি,
আশীর্বাদ কুড়িয়ে নিলেন
অজেয় বিরাট কোহলি।
####
ঢল নেমেছে স্টেডিয়ামে
মানুষের মুখ অজস্র
তাঁর জেতাটাই সবার জেতা
উঠছে জিগির সহস্র!
ক্রিকেট বল ছুঁলো আকাশ
যেন বন্দুকের গুলি;
মানুষ নাকি ঈশ্বরই আজ
অজেয় বিরাট কোহলি!
####
রানের পরে রান ছুটে যায়
সেঞ্চুরিরা তাঁর গোলাম,
ব্যাটে ঘর্ষণ জ্বলুক আগুন
বিজয়তিলক ফোঁটায় ঘাম।
ক্লান্ত নায়ক মুখের কোলাজ
আঁকছে যেন রঙতুলি,
আকাশটাকে ছুঁয়েই ফেলুন
অজেয় বিরাট কোহলি।।
২১শে জুলাই
ওরা ব্রিগেড মিছিলে নাচলো গাইলো ফুর্তি করলো সবাই,
দল বেঁধে কারা গিয়েছিলো পেতে উন্নয়নের ছোঁয়াই,
কন্যাশ্রী পেয়েছে মেয়েরা এ কথা সবারই শোনা
ভোরবেলা তুই মরেছিস আজই সেটা মনে রাখবোনা!
ক' লক্ষ লোক মিছিলে হাঁটলো সেই নিয়ে কানাকানি,
ভুলে গেলো সব ছুঁচের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত যোনি!
শুধু দলাদলি কুৎসা কীর্তি, তোকে ভাববেনা কেউ
ক্ষমা কর তুই, আমি কুন্ঠিত দেখে মিছিলের ঢেউ।।
খুব একটা নয় সোজা
বৃষ্টি ঝরে সারাটা দিন ধরে,
একলা দুপুর মেঘের ছোঁয়ায় ভেজা
জানলার ফ্রেম ধূসর স্মৃতির ভারে;
তোমায় ভোলা খুব একটা নয় সোজা।
গাছের পাতায় জলের ফোঁটা ভারি,
এমনদিনেই আসার কথা ছিলো
বিকেল তিনটে জানায় দেওয়াল ঘড়ি;
এমন সময় তোমায় মনে এলো।
মেঘ'রা ছায়া ফেলছে আয়নাজুড়ে,
খুব অসহায় নিজের প্রতিচ্ছবি
বর্ষা দিনে ডাকতে যেমন করে;
ফুরিয়েছে সব দেখা করার দাবী।
হয়তো দেখা হতো পার্কে ভিজে,
ছাতার নীচে দুজন অগোছালো
বুঝতোনা কেউ বর্ষা বিকেল মাঝে;
একটু কেন সোনা রোদের আলো।
তোমার সঙ্গে অন্য কারোর দেখা
চারটে বছর চার শতাব্দী আজ,
ঠোঁটের আগল খুলেছো দুজনেই;
আজ পরেছো যুদ্ধজয়ের সাজ।
বৃষ্টি ঝরে সারাটা দিন ধরে,
সন্ধ্যা নামে মেঘের ছায়ায় ভেজা
তোমরা দুজন একই ছাতায় হাঁটো,
আমার জন্য খুব একটা নয় সোজা।।
শীত গতপ্রায়
আবার একটা শীত গতপ্রায়; এই শীতেও তুমি জানলেনা হেমন্তের জাতক এক তোমাকে চাইতো অকারণ! মাঘের শেষবেলায় এ শহর অধিক কুয়াশায় ঢেকে যাবে, হু হু উত...
-
ত্রয়োদশী চাঁদের গায়ে ছেলেবেলার আঘাতের দাগ দেখেছি কাল সারারাত, কাল সারারাত চাঁদ তার ছেলেবেলার সমস্ত চোটের দাগ সারাগায়ে মেখে নিয়েছিলো। ...