চরক অথবা রাসপূর্ণিমা
শিবরাত্তির নিয়ে,
চলমান শিব একলা আসেন
গাজনের গান গেয়ে।
শহরতলি বা মফস্বলে,
দোকান বাজার হাই ইস্কুলে,
একলা ঘুঙুর পায়ে নেচে যায়
গাজনের গান গাহি,
মুসলমানের দোরে ভোলানাথ
বলে ভিক্ষাং দেহি।
জল না পানি কোনটা বড়
লড়ে শহরের মানুষ,
পেটের জ্বালায় ভোলে ভোলানাথ
এসবের নেই হুঁশ।
কে বা অচ্ছুৎ কে পুণ্যবান
মাথা ঘামাচ্ছে এরা,
চলমান শিব হেসে বলে ওঠে
"আহা! বেচারীরা।''
পিচ গলে ঠিক শহরের বুকে
ব্যস্ত মধ্যদুপুর,
ট্র্যাফিকের হর্ণ ছাপিয়ে বাজছে
মহেশ্বরের ঘুঙুর!
এসি গাড়ি কাচ তোলা জানলায়
কেউ শুনছেনা তাকে,
একা নেচে নেচে গেয়ে যায় ভোলা
কে কার খবর রাখে?
দেশটা পুড়ছে গরু আর রামে
তার কীইবা যায় আসে?
নিজে বাঁধে গান নিজেকে শোনায়
আপনমনেই হাসে!
ফুটপাতে যারা পায়না খেতেও
নেই ঘর মাথা গোঁজার;
সেইসব ছোট ছেলেমেয়েরাই
তাকে ঘিরে একাকার!
দুপুর রোদে ডমরু বাজিয়ে
রাসের গান গাহি,
সংখ্যালঘুকে আজ ভোলানাথ
বলে ভিক্ষাং দেহি।।
Saturday, 11 November 2017
শিবঠাকুরের গান
বিরাট কোহলির গান
আকাশটাকে ছোঁয়ার মতো
শূণ্যেতে দু'হাত তুলি,
আশীর্বাদ কুড়িয়ে নিলেন
অজেয় বিরাট কোহলি।
####
ঢল নেমেছে স্টেডিয়ামে
মানুষের মুখ অজস্র
তাঁর জেতাটাই সবার জেতা
উঠছে জিগির সহস্র!
ক্রিকেট বল ছুঁলো আকাশ
যেন বন্দুকের গুলি;
মানুষ নাকি ঈশ্বরই আজ
অজেয় বিরাট কোহলি!
####
রানের পরে রান ছুটে যায়
সেঞ্চুরিরা তাঁর গোলাম,
ব্যাটে ঘর্ষণ জ্বলুক আগুন
বিজয়তিলক ফোঁটায় ঘাম।
ক্লান্ত নায়ক মুখের কোলাজ
আঁকছে যেন রঙতুলি,
আকাশটাকে ছুঁয়েই ফেলুন
অজেয় বিরাট কোহলি।।
২১শে জুলাই
ওরা ব্রিগেড মিছিলে নাচলো গাইলো ফুর্তি করলো সবাই,
দল বেঁধে কারা গিয়েছিলো পেতে উন্নয়নের ছোঁয়াই,
কন্যাশ্রী পেয়েছে মেয়েরা এ কথা সবারই শোনা
ভোরবেলা তুই মরেছিস আজই সেটা মনে রাখবোনা!
ক' লক্ষ লোক মিছিলে হাঁটলো সেই নিয়ে কানাকানি,
ভুলে গেলো সব ছুঁচের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত যোনি!
শুধু দলাদলি কুৎসা কীর্তি, তোকে ভাববেনা কেউ
ক্ষমা কর তুই, আমি কুন্ঠিত দেখে মিছিলের ঢেউ।।
খুব একটা নয় সোজা
বৃষ্টি ঝরে সারাটা দিন ধরে,
একলা দুপুর মেঘের ছোঁয়ায় ভেজা
জানলার ফ্রেম ধূসর স্মৃতির ভারে;
তোমায় ভোলা খুব একটা নয় সোজা।
গাছের পাতায় জলের ফোঁটা ভারি,
এমনদিনেই আসার কথা ছিলো
বিকেল তিনটে জানায় দেওয়াল ঘড়ি;
এমন সময় তোমায় মনে এলো।
মেঘ'রা ছায়া ফেলছে আয়নাজুড়ে,
খুব অসহায় নিজের প্রতিচ্ছবি
বর্ষা দিনে ডাকতে যেমন করে;
ফুরিয়েছে সব দেখা করার দাবী।
হয়তো দেখা হতো পার্কে ভিজে,
ছাতার নীচে দুজন অগোছালো
বুঝতোনা কেউ বর্ষা বিকেল মাঝে;
একটু কেন সোনা রোদের আলো।
তোমার সঙ্গে অন্য কারোর দেখা
চারটে বছর চার শতাব্দী আজ,
ঠোঁটের আগল খুলেছো দুজনেই;
আজ পরেছো যুদ্ধজয়ের সাজ।
বৃষ্টি ঝরে সারাটা দিন ধরে,
সন্ধ্যা নামে মেঘের ছায়ায় ভেজা
তোমরা দুজন একই ছাতায় হাঁটো,
আমার জন্য খুব একটা নয় সোজা।।
Friday, 27 October 2017
হিংসে হয় এখনো
অফক্লাসে যেটা বলার ছিলো তোকে,
কোনোদিনও আর বলা হয়নি যেন
বাচ্চা গুলোকে ইস্কুলে যেতে দেখে
জানিনা কেন হিংসে হয় এখনো।
স্কুলললাইফটা চলে গেছে ফাঁকি দিয়ে,
টিফিনের পিরিয়ড, কোচিং ক্লাস আর
তোকে সঙ্গে নিয়ে;
স্কুলড্রেসে তোকে দেখবোনা আর কখনও
বাচ্চাগুলোকে ভাগাভাগি করে টিফিন খেতে দেখে
জানিস! আমার হিংসে হয় এখনো!
ক্লাস পালানো, হেডস্যারের রাগ;
ব্ল্যাকবোর্ডেতে পুরনো চকের দাগ
ফুড়ুৎ করে পালিয়ে গেলো যে কবে
আহা! বারোটা বছর ইস্কুলে তান্ডবে।
আর কোনোদিনও দেখতে হবেনা
স্যারের চোখরাঙানো;
বিশ্বাস কর! বাচ্চাগুলোকে বকুনি খেতে দেখে
ভীষণ হিংসে হয় আমার এখনো।।
Thursday, 19 October 2017
Soft poem
জানলায় তার রোদ এসে দিলো উঁকি,
মেঘের আঁচলে সূয্যিমামার টুকি
স্বপ্ন হারিয়ে বেঁচে থাকা শুধু বাকি;
শৈশব কবে চলে গেছে দিয়ে ফাঁকি।
আশ্বিন মাস, পুজোর ছুটির হাওয়া
রেলগাড়ি চেপে দার্জিলিংয়েতে যাওয়া---
কালবোশেখির আম কুড়োনোর ধুম,
গরমের ছুটি, ফেলুদার বই--দুপুরটা নিঃঝুম।
আজ জারুলগাছেতে নেই ল্যাজঝোলা পাখি;
শৈশব ছেড়ে চলে গেছে আজ আমাকে দিয়ে ফাঁকি।।
মৌয়ের জন্য....খানিক পাগলামি
আজকে হঠাৎ দেখছি তোকে দূর থেকে,
স্কুলড্রেসটায় আগের মতোই লাগছে তোকে
না তাকিয়ে পালিয়ে গেলি কোন বাড়ি?
আগের মতোই একটু আজো অহংকারী।
বুকের ভেতর জমছে আবার পুরনো ঘা;
চোখের পাতায় মেঘ জমেছে অবজ্ঞার!
চুলগুলো তোর এলোমেলো আগের মতোই
রুক্ষ গালে শেষ সূর্যের একটু আলোয়,
সারাটা দিন স্মৃতির ভারে মেঘজমা মন;
আজকে শুধুই সঙ্গী হবেন কবীর সুমন।।
চিৎপুরের গান
এখানে রঙ মাখা মুখের আড়ালে
আছে আরেক জীবন।
পাথরচাপা বুকে কোনটা
আসল হাসি, কোনটা কান্না অকারণ।
এখানে মঞ্চ আছে, জীবনের খুব কাছে,
নিজেকে লুকিয়ে রাখে অনেক আবরণ।
গলির অন্ধকারে, সন্ধ্যার আল ধরে,
স্ট্রিট লাইটের নিচে কাঁদে চিৎপুর;
মাকড়সা জাল বোনে দেওয়ালের এককোণে,
কোনো ঘরে শোনা যায় কবেকার সুর।
রঙচটা হোর্ডিং এ দেওয়ালের চুনকামে
বন্ধ অপেরাগুলো ভাবে আনমন;
এখানে রঙমাখা মুখের আড়ালে
আছে আরেক জীবন।
এখানে সন্ধ্যাগুলো, আবছায়া মনে হলো,
মঞ্চের মহারাজ ভেতরে ফকির;
কত ছলনার কথা বলতে গিয়েও ব্যথা
হৃদয়ের কথাগুলো আসলে বধির,
গিরিশ ঘোষের সাথে
কেউ হাঁটে প্রতিরাতে,
একদিন মুছে যাবে সকল ভাঙন।
এখানে রঙমাখা মুখের আড়ালে
আছে আরেক জীবন।।
শ্রেয়শ্রীর জন্য....দু'চার লাইন
তোমার কন্ঠ হারিয়ে দেবে আমায়
মেনেই নিলাম এ শুধুই খেলা খেলা,
তোমার কাছে আমার পরাজয়
তোমার ঠোঁটের কাব্যি রাতের বেলা!
সুনীল শক্তি বাদ দাও, মুলতুবি আজ
আজকে না হয় আমারই কবিতা বলো
তোমার গলায় যুদ্ধজয়ের সাজ,
ভুলেই যাচ্ছি রাত্তির কত হলো।।
বাংলা ভাষা
বাংলা ভাষাটা আমার রন্ধ্রে জাগে
সুখ অসুখ আর অভিমানে অনুরাগে,
দুই অলিন্দে নিলয়ের কোণে ঘোরে
পান্নালালের বাঁশির সন্ধ্যারাগে।
হৃদপিন্ডের প্রকোষ্ঠে বেজে ওঠে
রামপ্রসাদের শ্যামার গানের কথা;
শরীর জুড়ে বাংলার মাঠে ঘাটে
বল্লাল সেন-মদন মল্ল কবেকার রূপকথা!
এনরিকিউয়ে প্রয়োজন নেই আমার
মনের আকাশ জুড়ে আছেন লালন;
বিলিতি প্রেমের গানগুলো থাক তোমার
আমার জন্য আছেন কবীর সুমন।
আমিও বাংলাতেই স্বপ্ন দেখি,
আমার শহর নাচবে ঘুঙুর পায়ে
হাতে'তে থাকবে বোলপুরের একতারা
নির্মলেন্দু গাইবে শিরায় শিরায়।
তুমি তো এখনো উপনিবেশেই মত্ত,
চাঁদ বা চামেলি কবি কেটসের নয়
ওসব তোমার জন্যই তোলা থাক
আমি শুনবো হিমাংশু দত্ত!
জীবনানন্দ দাশের নাম জানো?
সেই কবি আজো বাংলায় কেঁদে ফেরে
এই পথে আজো হাঁটেন বিভূতিভূষণ
চাঁদ সদাগর ডিঙা ভাসান আজো গাঙুরে।
আমি তো এখনো বেঁচে আছি এইনিয়েই
হাড়ে মজ্জায় দুইজন নচিকেতা,
কলের গানে বাজেন আখতারি বাই
আহা! কী দারুণ পুলকবাবুর কথা।
তুমি বেঁচে থাকো পার্টি-র্যাপ সং নিয়ে
রবীন্দ্রনাথে তোমাদের নেই অধিকার
রজনীকান্ত আমার নিঃশ্বাসে
প্রশ্বাসে ঘিরে ধানসিঁড়ি বাংলার।
খোয়াই কিংবা গাঙুর যাকেই ডাকো
সব নদী মেশে একই মোহনাতেই
সার্থক হবে তোমারও জন্ম জেনো
দুই চোখে যদি বাংলার ছবি আঁকো।।
শ্রমিক
(বের্টোল্ট ব্রেখট সুজনেষু)
ওহে শ্রমিক, ওহে শ্রমিক
শ্রমিক এটাই তোমার পরিচয়;
তোমার ঘামের বদলে ওদের
যা কিছু সঞ্চয়।
সাতদরজাওয়ালা থিবস
গড়ে তুলেছিলো কারা?
ইতিহাস মনে রেখেছে তাদের
সরকারে ছিলো যারা,
এর বেশি কিছু পাবেনা তুমি
শ্রমের বিনিময়ে;
তোমার ঘামের বদলে ওদের
যা কিছু সঞ্চয়।
ধনীর দেশের কথা বলে লোকে
বাইজেনটিয়াম,
সেখানে সবাই থাকতো প্রাসাদে
ঝরেনি রক্ত ঘাম
সে প্রাসাদ কারা গড়ে তুলেছিলো
জানতে দেবেনা তোমায়;
তবু তোমার ঘামের বদলে ওদের
যা কিছু সঞ্চয়।
আর্মাডা ডুবে যাওয়ার সময়
ফিলিপ কেঁদেছে একা,
গোটা স্পেন দেশ কাঁদেনি তখন
ইতিহাসে এটা লেখা;
অশোক একাই কেঁদেছিলো নাকি
করে কলিঙ্গ জয়,
তোমার ঘামের বদলে ওদের
যা কিছু সঞ্চয়।
শাহজাহান শুধু একা গড়েছিলো
ময়ূর সিংহাসন,
তোমার মতো কারোর ঘাম
ঝরেনি তখন;
এসব নিয়ে প্রশ্ন তুলোনা
এসব তোমার নয়,
শুধু তোমার ঘামের বদলে ওদের
যা কিছু সঞ্চয়।
সিজার একাই গড়ে তুলেছিলো
মিশরের প্রতিরোধ,
অন্তত কী ছিলোনা সঙ্গে
একজনও পাচক?
(বিশ্বাস করা শেখো)
আলেকজান্ডার একা করেছিলো
বিশাল ভারতজয়,
শুধু মজুরি পেয়েই খুশি থাকো
প্রশ্ন তোমার জন্য নয়।।
শীত গতপ্রায়
আবার একটা শীত গতপ্রায়; এই শীতেও তুমি জানলেনা হেমন্তের জাতক এক তোমাকে চাইতো অকারণ! মাঘের শেষবেলায় এ শহর অধিক কুয়াশায় ঢেকে যাবে, হু হু উত...
-
ঝড়ের উত্তাল দাপটে জাহাজটা কেঁপে কেঁপে উঠছে বারংবার। চারʼপাশে কোনো কিনারা কোনো চর দেখা যাচ্ছেনা; বিদ্যুতের উদ্যত শিখা আকাশটাকে চিরে দিচ্ছে ফা...
-
বাংলা ভাষাটা আমার রন্ধ্রে জাগে সুখ অসুখ আর অভিমানে অনুরাগে, দুই অলিন্দে নিলয়ের কোণে ঘোরে পান্নালালের বাঁশির সন্ধ্যারাগে। হৃদপিন্ডের প্রক...