Friday, 26 January 2018

Wednesday, 17 January 2018

পুষ্পিতা....আবারও তোমার জন্যেই!!

আমি হয়তো পাগল হয়ে যাবো,
অথবা আত্মহত্যা করবো!
পাতার পর পাতা লিখে যাচ্ছি
মাথামুণ্ডুহীন!
যেসব কবিতা পড়লে উচ্চশ্রেণীর
সাহিত্যবোদ্ধা সমালোচকরা
নাক সিঁটকোবে।
আমি তো এমন ছিলামনা!
আমিও ছিলাম কিছু বিশিষ্ট
প্রকাশক সম্পাদকদের
ধান্দাবাজ স্তাবকবৃন্দের দলে।
আমি তো বরাবরই বামপন্থী;
যে হৃদয়ের চেয়ে মস্তিষ্ককে
প্রাধান্য দিয়ে গেছে বেশি।
তবে একি হলো আমার?
দুর্ভিক্ষপীড়িত মুখ আজকাল
মনে আসছেনা কেন?
পলিটিকাল ঝাঁঝালো আলোচনা
অর্থহীন লাগছে হঠাৎ!
আমার যুক্তিবাদী বামদিক
হঠাৎ স্লোগান তুলছে,
"পুষ্পিতা! পুষ্পিতা!"
আমার অলিন্দ আর নিলয়ে
রক্তের টাগ অফ ওয়ার,
একটাই জিগির তুলছে
"পুষ্পিতা! পুষ্পিতা!''
আমার রক্তের প্রত্যেকটি
এরিথ্রোসাইট-মনোসাইট-লিম্ফোসাইট
আর্তনাদে পাগল করে তুলছে আমাকে,
"পুষ্পিতা! পুষ্পিতা!''
আমার শিরা আর ধমনীর টিপটিপ
রক্তের বয়ে চলা, একটাই নাম ধরে
স্রোত বয়ে দিচ্ছে একটানা,
"পুষ্পিতা! পুষ্পিতা!''
এ আমার কী সর্বনাশ হলো?
তোমার বিদ্রুপ তোমার অবহেলায়
আমি ক্ষতবিক্ষত হই প্রতিনিয়ত!
আমি স্বপ্ন না দুঃস্বপ্ন দেখি আজকাল;
শবযাত্রীদের ভিড়ে সাদা বিছানায়
ফুলে ফুলে ঢেকে আছে আমার শরীর!
আমার শরীর নিয়ে কাটাছেঁড়া করে ডাক্তার
লাশকাটা ঘরে!!
আমাকে দিয়ে এইসব জঘন্য পাগলামি
লিখিয়ে নিচ্ছে তোমার কৌতুকময় চোখ!
আমি কিসে শান্তি পাবো?
সুমনের গান আজ অসহ্য মনে হয় নিদারুণ!!
লেনিন ভুলে লালন হলাম আজ হঠাৎ!
সমাজের ওষুধ খোঁজা ছেড়ে
মনের মানুষের খোঁজে পাগল করলে আমাকে!
পুষ্পিতা,আমি কী করে মুক্তি পাবো?
তোমার অবহেলায় সব পাতা ঝরেছে আমার,
নগ্ন শুষ্ক ডাল কোথায় লুকোই
এই ভীষণ সর্বনাশা উত্তুরে হাওয়ার মরশুমে!!
                                                    -দেবসেনাপতি

Tuesday, 16 January 2018

পুষ্পিতা তোমাকে বলছি..!!

পুষ্পিতা, দ্যাখো ঝড়ের দাপটে লণ্ডভণ্ড হচ্ছে আমার ভেতর ও বাইরে;
কোন গানে কোন কবিতায় আমি শান্তি পাবো?
আমার ভেতরটা জ্বালিয়ে দিচ্ছো
এ কোন বিদ্রুপের আগুনে?
আমি অকালবৈশাখীতে মাঘের রাতে
একটা শীতার্ত গাছ হয়ে দাঁড়িয়ে আছি
কোন জমে যাওয়া স্থবির আঁধারে!
পুষ্পিতা, এ কেমন বিদ্রুপের ঝড়?
আমার শুষ্ক শীতের ডালপালা থেকে
হু হু ঝড়ে সমস্ত আবরণ শুকনো পাতারা
ঝরে যাচ্ছে দ্রুত সেই হাওয়ায়!
আমার জীবনের একেকটি অধ্যায়
গান কবিতা গল্পেরা আমাকে ছেড়ে
উড়ে যাচ্ছে রুদ্ধ ঝড়ের দাপটে!
শুষ্ক ডালপালার সমস্ত আবরণ
খসিয়ে দিচ্ছে তোমার তোলা এই তাণ্ডব!
পুষ্পিতা, এ কেমন বিদ্রুপের ঝড়?
আমাকে নগ্ন করে দিলো
সমস্ত পাতা ঝরিয়ে দিয়ে
আমাকে নগ্ন করলো সম্পূর্ণ!
আমার সমস্ত গৌরব এক ফূঁয়ে
উড়িয়ে দিলে তুমি!
ভ্রু পল্লবে এ কেমন তীক্ষ্ম কৌতুক?
আমার কবিতা, আমার গল্প,
আমার রাজনীতি, গান, সিগারেট....
যা কিছু আমার ছিলো গর্ব করার মতো!
সবকিছু অর্থহীন করে দিলে তুমি।
শরীরে অক্সিজেন আগের মতোই প্রতিনিয়ত,
বাইরে এখনো আমি বসন্তের চিরসবুজ গাছ!
কিন্তু বুকের ভেতর উত্তুরে হু হু হাওয়া
আমাকে শুষ্ক করে জ্বালিয়ে দিচ্ছে দ্রুত!
শীতের এই সর্বনাশা হাওয়ায়
অরণ্যে জ্বলে ওঠে দাবানল!!
জানোনা তুমি?
আমার বহু যত্নে সাজানো
কবিতা গান গল্প নাটক আর রাজনীতিদের
ক্ষতবিক্ষত করে দিলে আজ কঠিন বিদ্রুপে!
আমাকে জ্বালিয়ে দাও ভ্রু পল্লবে মিশে থাকা
কৌতুকের আঁচে;
কবীর সুমনের পায়ে সাজাও আমার চিতা কাঠ,
নিঃশেষ করে দিয়েছো তো আমায়!
এখন রিক্ত শরীরে উত্তুরে শুকনো হাওয়ায়
দ্রুত জ্বলে উঠবে আগুন;
তোমার দু'চোখে তো তীক্ষ্ম বারুদ!!
সে আগুনে ঘৃতাহুতি কবীরের গান,
আমার সমাধী পরিপূর্ণ হোক অমোঘ চিতায়।।
                                                  

Monday, 15 January 2018

নিকৃষ্টান্ধকার

এতো ঘৃণা সুন্দরের চোখে?
আমি কী জীবাণু নাকি সরীসৃপ?
নাকি গলিত স্থবির অন্ধকার?
যেমন অন্ধকার শীতের সন্ধ্যায়
শীতল পুকুরে জমে আসে!
এমন পুকুরে....পচা পানা জমে বহুদিন!
দুর্গন্ধে পরিত্যক্ত সেই ঘাট....
গা ঘিনঘিনে কটকটে স্বরে কবেকার ইঁটের
ফোকরে ডাকে বুড়ো তক্ষক!
সন্ধ্যার গাঢ় নীল ছুঁয়ে ফেলে পুকুরের জল।
দু দণ্ড স্থাণু হয় ঢোঁড়াসাপ...ডুব দেয় পুকুরের
সবুজ নোংরা অন্ধকারে!!
আমি সেই নগ্ন গহীন অন্ধকার!
যার প্রতি সুতীব্র ঘেন্নায় সুন্দরের চোখ লাল হলো।
নিজের নগ্ন শরীরটুকু অন্ধকার করে নিয়ে
তবে ডুব দেওয়া ভালো সবুজ পানার অন্ধকারে!
দু একটা মাছ শুধু ঝুপঝুপ করে নিক চারপাশে,
আমাকে মিশিয়ে দিক জলেতে মাটির তল পেয়ে।
পায়ের পাতার নীচে ঠাণ্ডা ভিজে মাটি,
পুকুরের ঘাটজুড়ে কেউ আসবেনা এখানে;
কেউ না! শুধু আমি আদি ও অনন্তকাল
অন্ধকার হয়ে মিশে থাকবো এখানে।
কেউ না জানুক, সেই ভালো!
সুন্দর খুশি হোক, যেখানে যা কিছু আছে
অতীব জঘন্যও দেখা দিক সুপুরুষ হয়ে।
সুন্দরের চোখে এতো আলো,
যে আলোয় লজ্জিত হয়ে
নগ্ন মহাকাশের আঁধার আজ এতটুকু হয়ে
মিশে গিয়ে হারাতে চায় পরিত্যক্ত এক
পুকুরের সবুজ অন্ধকার শরীরে!
আমি সেই মহাকাশ, আমার ছায়াটুকুও
মিশে যাক আমার শরীরে;
অন্ধকারের বুকে কোনো ছায়া অভিন্ন হবেনা!
নিজের ছায়াকেও আমি ভয় পাই আজকাল,
যদি তার ছোঁয়াচেতে সুন্দরের ঘৃণা জেগে ওঠে।
ঘৃণার আলোয় আমি অন্ধকার হবো,
মহাকাশ ছিলাম আমি, অখণ্ড গাঢ় মহাকাশ!
বুঝিনি এ নগ্নতা কোনোদিনও গৌরব নয়,
মহাকাশ উলঙ্গ পুরুষাঙ্গে কাপড় কোথায়?
ওই ঘৃণার আগুন আঁচ আলো,
আমার শরীরের সব অন্ধকার জ্বলে গেলো,
এতো জ্বালা নিয়ে আমি কোথায় লুকোবো?
তাই দারুণ অবসাদে কিংবা সুতীব্র যন্ত্রণা নিয়ে
পুকুরের জলে আজ এতটুকু অন্ধকার নিয়ে
মহাকাশ ডুব দিলো নিজেকে উজাড় করে দিয়ে!
এতো তারা বুকে যার, সেও একা হয়ে যায়
সুন্দরের দুচোখের দাউদাউ ঘৃণার আগুনে!
দুনিয়ার সবচেয়ে ভীতু কাপুরুষও বুঝি
আমার চেয়ে উৎকৃষ্টতম
সুন্দরের চোখে!
আমার অপরাধ আমি কোনোদিনও
মেকি আলো হয়ে মিথ্যে গৌরব নিয়ে
দাঁড়াতে পারিনি সুন্দরের সামনে!
বরং যা আমি, আমার যা পরিচয়
সেই গাঢ় মহাকাশ হয়েই আমার বুকেতে জমা
সমস্ত তারাদের নিয়ে গৌরব করে গেছি আজীবন।
সবুজ অন্ধকারে মুখ লুকিয়ে বুঝলাম আজ;
আমাকে ভালবাসা কী ভীষণ জঘন্য কাজ!!
                                                  

Friday, 5 January 2018

রোদ্দুর

বহুদিন রোদ্দুরে ভিজিনি আমি
বহুদিন----যেন কত শতাব্দী;
অথচ,ডালপালা বেয়ে আসা রোদ
আমার জানলায় এসে ছোঁয় আমাকে
আমি হাত বাড়াই; হাতে নিই একমুঠো রোদ!
আমার হাতের তালু পিছলে বেড়িয়ে যায়
রোদের সোনালি কণাটুকু।
এই রোদ----বড় আপন ছিলো আমার;
হেমন্তের শেষে তপ্ত যে রোদের জন্য
আমি সারা হেমন্ত অপেক্ষায় থাকি
সেই রোদ এতো কাছে এসেও
আমাকে ছুঁলোনা এ বছর।
এমন শীতের রোদেই মিশে ছিলো
আমার মৃত প্রিয়জনেদের হাসিমুখ,
স্নেহপ্রদত্ত হারিয়ে যাওয়া কয়েকটি
মৃত ডাকনাম আমার!
গোলকোণ্ডার ছাদে এই পড়ন্ত রোদই
ভিজিয়েছিলো একদিন সেই যুবতীকে।
বলেছিলাম, "আমার রোদ্দুরে ভিজতে ভাললাগে!''
আমার শরীর....কোনো মৃতজীবী
জলজ উদ্ভিদের মতো স্থাণু;
স্যাঁতসেঁতে পৃথিবীর এককোণে!
আমি একটু উষ্ণতার লোভে
জানলায় হাত বাড়িয়ে দিই,
তপ্ত করতে চাই হাতের তালুটুকু!
পড়ন্ত রোদটুকু হারিয়ে যায়
দূরের সুপারির সারীর পেছনে ধীরে ধীরে;
অন্ধকার স্যাঁতসেঁতে স্থবির হয়
ঠাণ্ডা সরীসৃপের মতো।
নিজেকে আজকাল সরীসৃপ মনে হয়;
কিংবা কুয়োর নীচে লুকোনো কোনো ব্যাঙ!
যারা কোনোদিনও রোদ্দুর পায়নি!
কোনো শতাব্দীতেও.....!
আমার ভেতরে কোনো উষ্ণতা নেই।
যে রোদ্দুরকে আমি সাজিয়ে তুলেছিলাম
আমবাগানে হেমন্তের সকালে
কিশোরীর বেশে,
কখনো বা শরতের নিথর পুকুরে
মুখ দেখা উদাসিনী মেয়েটির মতো।
প্রতারক রোদ্দুর---আজকের ভুলেছে আমায়।।
                                                     -দেবসেনাপতি

Monday, 1 January 2018

এই দেশ

সোনাইয়ের নাম ধরে
আজও কাঁদে প্রেমিক মাধব,
ভোরের গাঙুরে চাঁদ সদাগর
ভাসালেন মধুকর ডিঙা উৎসব!
পূবের আকাশ থেকে রক্ত ঝরিয়ে দিয়ে
লাল হলো বেহুলার সিঁথি,
বাংলার পথে ঘাটে আজও আমি
তোমাদের সাথী।
######
সহসা হ্রেষ্বাধ্বনি, ছুটে আসে বল্লাল সেন
রামপ্রসাদের গান শুনে শ্যামা কিশোরী হলেন!
সে কিশোরী খেলে যায় বাংলার মাঠে ঘাটে পথে
লালন ধরেন গান দরিয়ায় আচম্বিতে!
ভোরের সূর্যে লাল গাঙুরের বুকে ভাসে
ভাষা শহীদের সেই স্মৃতি.....
বাংলার পথে ঘাটে আজও আমি
তোমাদের সাথী।
######
সিরাজের সমাধী প্রথম আলোয় করে স্নান,
মাধুকরী কীর্তনে মিলে যায় ভোরের আজান!
সূর্যোদয়ের রাগে কন্ঠ মেলান মহাকাল,
মায়ের কাজল আজও প্রহরায় শিশুর কপাল।
শ্যাম শামসুল ভাইয়ে দাঙ্গার শেষে সম্প্রীতি,
বাংলার মাঠবনে চিরকাল রবো আমি
তোমাদের সাথী।।

শীত গতপ্রায়

আবার একটা শীত গতপ্রায়; এই শীতেও তুমি জানলেনা হেমন্তের জাতক এক তোমাকে চাইতো অকারণ! মাঘের শেষবেলায় এ শহর অধিক কুয়াশায় ঢেকে যাবে, হু হু উত...