বহুদিন রোদ্দুরে ভিজিনি আমি
বহুদিন----যেন কত শতাব্দী;
অথচ,ডালপালা বেয়ে আসা রোদ
আমার জানলায় এসে ছোঁয় আমাকে
আমি হাত বাড়াই; হাতে নিই একমুঠো রোদ!
আমার হাতের তালু পিছলে বেড়িয়ে যায়
রোদের সোনালি কণাটুকু।
এই রোদ----বড় আপন ছিলো আমার;
হেমন্তের শেষে তপ্ত যে রোদের জন্য
আমি সারা হেমন্ত অপেক্ষায় থাকি
সেই রোদ এতো কাছে এসেও
আমাকে ছুঁলোনা এ বছর।
এমন শীতের রোদেই মিশে ছিলো
আমার মৃত প্রিয়জনেদের হাসিমুখ,
স্নেহপ্রদত্ত হারিয়ে যাওয়া কয়েকটি
মৃত ডাকনাম আমার!
গোলকোণ্ডার ছাদে এই পড়ন্ত রোদই
ভিজিয়েছিলো একদিন সেই যুবতীকে।
বলেছিলাম, "আমার রোদ্দুরে ভিজতে ভাললাগে!''
আমার শরীর....কোনো মৃতজীবী
জলজ উদ্ভিদের মতো স্থাণু;
স্যাঁতসেঁতে পৃথিবীর এককোণে!
আমি একটু উষ্ণতার লোভে
জানলায় হাত বাড়িয়ে দিই,
তপ্ত করতে চাই হাতের তালুটুকু!
পড়ন্ত রোদটুকু হারিয়ে যায়
দূরের সুপারির সারীর পেছনে ধীরে ধীরে;
অন্ধকার স্যাঁতসেঁতে স্থবির হয়
ঠাণ্ডা সরীসৃপের মতো।
নিজেকে আজকাল সরীসৃপ মনে হয়;
কিংবা কুয়োর নীচে লুকোনো কোনো ব্যাঙ!
যারা কোনোদিনও রোদ্দুর পায়নি!
কোনো শতাব্দীতেও.....!
আমার ভেতরে কোনো উষ্ণতা নেই।
যে রোদ্দুরকে আমি সাজিয়ে তুলেছিলাম
আমবাগানে হেমন্তের সকালে
কিশোরীর বেশে,
কখনো বা শরতের নিথর পুকুরে
মুখ দেখা উদাসিনী মেয়েটির মতো।
প্রতারক রোদ্দুর---আজকের ভুলেছে আমায়।।
-দেবসেনাপতি
Friday, 5 January 2018
রোদ্দুর
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
শীত গতপ্রায়
আবার একটা শীত গতপ্রায়; এই শীতেও তুমি জানলেনা হেমন্তের জাতক এক তোমাকে চাইতো অকারণ! মাঘের শেষবেলায় এ শহর অধিক কুয়াশায় ঢেকে যাবে, হু হু উত...
-
ত্রয়োদশী চাঁদের গায়ে ছেলেবেলার আঘাতের দাগ দেখেছি কাল সারারাত, কাল সারারাত চাঁদ তার ছেলেবেলার সমস্ত চোটের দাগ সারাগায়ে মেখে নিয়েছিলো। ...
No comments:
Post a Comment