মাঝে মাঝে উদ্ভট সব কল্পনা
আসে মাথায়,
অদ্ভুত সব পাগলামির চিন্তা;
তৎক্ষণাৎ ঝটকায় সরানো যায় যদিও
কিন্তু সরাইনা, বলা ভালো সরাতে মন চায়না।
অপরাধ কিছু তো নয়, নেহাতই স্বপ্ন দেখার রোগ
তোমাকে নিয়ে কিছু অলীক পাগলামি;
আমিও জানি যেসব কোনোদিনও
সত্যি হওয়ার নয়।
ভোরের কুয়াশার মতো বা
ঈশ্বরের অস্তিত্বের মতো
যা সকালের রোদ উঠলেই
একটু যুক্তির ঘা দিলেই
টুকরো টুকরো হয়ে হারিয়ে যায় কোথায়!
মনে হয়, তুমি শুধু আমার জন্যেই এলে
এই পৃথিবীতে; শুধু আমার জন্যেই
তোমায় সৃষ্টি করলেন ঈশ্বর!
হয়তো এর আগে তুমি কোথাও ছিলেনা,
অথবা কত আলোকবর্ষ দূরে কোন মহাকাশে
কোন এক ঝলমলে নক্ষত্র হয়ে
লুকিয়ে ছিলে চুপচাপ!
হঠাৎ মাটিতে ঝরে পরলে টুপ করে
আমার জন্যেই!
বড় অদ্ভুত পাগলামি,
তবু মনে হয় ওই ঘন কালো চোখ
ঘাসের মতো স্নিগ্ধ চোখের পালক;
তীক্ষ্ম ধনুকের ছিলার মতো ভ্রু....
আমার জন্যেই!
কুমোরটুলির কোনো পটুয়ার হাতে গড়া
শিল্পের মতোই ছাঁচে ফেলা সুনিপুণ নাক,
নাকের মধ্যিখানে ডানদিক ঘেঁষে
ছোট্ট কালো তিল......
আমার জন্যেই!
অস্ফুট হাসি এক গভীর ছোট্ট ঠোঁটে
ঠোঁটের কোণায় এক অতিসূক্ষ্ম তিল....
আমার জন্যেই!
সিল্কের মতো ঘন চুলের অন্ধকার.....
আমার জন্যেই!
মাঝে মাঝে উদ্ভট সব কল্পনা
আসে মাথায়,
অদ্ভুত সব পাগলামির চিন্তা;
অন্যরকম এক আবেগের সুর
বেজে ওঠে বিসমিল্লার সানাই হয়ে!
অদ্ভুত ঘন রাত এক,
রিমঝিমে তারা ভরা আলোর রোশনাইয়ের রাত
ঘোমটা সরাচ্ছি খুব ধীরে ধীরে তোমার....!
কপালে সাদা লাল চন্দনের ডিজাইন
অদ্ভুত ট্র্যাপিজিয়াম আঁকে!
এসব অলীক চিন্তা; বাস্তব ভিত্তি নেই কোনো!
একটু রোদের ছোঁয়াই যথেষ্ট ভোরের কুয়াশাজাল
ছিঁড়ে দিতে।
মাঝে মাঝে উদ্ভট সব কল্পনা আসে মাথায়,
অদ্ভুত সব পাগলামির চিন্তা!
মনে হয় সারাজীবন হৃদয়ে প্রেমের দিন
যতদিন চলে, ততদিন চাইবে আমাকেই
অদ্ভুত আবেগঘন চাহনিতে তাকাবে আমার দিকেই
আরও হাজার বছর।
যদিও জানি আমি, তোমার সমস্তকিছুই
অন্য কারোর।।
(শাহির লুধিয়ান্বির কবিতার ভাবানুবাদ বিশেষ)
Friday, 9 March 2018
অলীক পাগলামি
বড় অদ্ভুত ছিলো সন্ধেটা (গুলজারিশ- ১৬)
বড় অদ্ভুত ছিলো সন্ধেটা
আজও তেমনই সন্ধ্যা ঘনাচ্ছে চরাচর জুড়ে;
তখনও সে কাছে ছিলো, সন্ধ্যাতারার আলোয়
শাঁখের কান্নায়......!
আজও সে ততটাই কাছাকাছি আছে।
একই নক্ষত্রের নীচে একই আলো আকাশের নীচে
আমরা দুজনে আছি বহুদিন!
আজও সে আগের মতোই কাছাকাছি আছে নিশ্চয়ই।
ঘন চোখের তারায় তারায় সন্ধ্যাতারা দেখছে সে,
আমিও তো তেমনই দেখি ওই সন্ধ্যাতারা;
দুজনে একইসময় একই তারাকে দেখি
চারচোখ মেলে।
মনে হয়, আমার নামে হয়তো তুলসীমঞ্চে
শাঁখেতে ফুঁ দিয়ে প্রদীপ জ্বালছে এখন!
নিশ্চিত জানি, আগের মতোই তারায় তারায় ভরা
আকাশে তাকিয়ে ঠোঁটের কোণায় সেই
অস্ফুট হাসি....আগের মতোই।
আজও সে আগের মতোই কাছাকাছি আছে
নিশ্চয়ই।
আমার তো এখনও মনে হয়
সেই সন্ধের মতোই একসাথে পাশাপাশি
সন্ধ্যাতারাকে দেখি আমরা দুজন!
সে তাকায় চোখ তুলে, আমিও সঙ্গে;
একই তো আকাশ, একই নক্ষত্র তো
একই সময় ফুটে ওঠে!
কিছুই তো বদলায়নি, আগের মতোই
সংযত লাজুক হাসি,
সেই চোখ, ঠোঁটের কোণায় সেই
ছোট্ট তিল খুঁজে নেওয়া!
আমি জানি নিশ্চিত, সে আমার নামে
শাঁখে ফুঁ দেয় এখনো সন্ধ্যায়;
তারও সঙ্গে হাঁটে আমার মতোই গোটা
মহাকাশ, যতদূরে হেঁটে যাই আকাশটাও
সঙ্গী হয় আমার.....জানিনা কেন হঠাৎ
মনে হলো, একইসাথে মহাকাশ সাথে নিয়ে
আমার সঙ্গে হেঁটে চলেছে সেও!
বড় অদ্ভুত ছিলো সন্ধেটা;
আজও তেমনই সন্ধ্যা ঘনাচ্ছে চরাচর জুড়ে!!
Thursday, 8 March 2018
কবিতার হাত ধরে (গুলজারিশ- ১৫)
প্রত্যেক পথের শেষে তোমার জন্যে
আমি একটি করে কবিতাকে
দাঁড় করিয়ে রেখেছিলাম প্রহরীর মতো।
এ পথ বড় কঠিন, ধূসর অন্ধকারে ব্যপ্ত চরাচর!
পাথর কেটে বানানো রাস্তায়, আমার আঙুল ছেড়ে
একলা অন্ধকারে ডুব দিলে তুমি!
আমার প্রেমের দোহাই, আশঙ্কা হয়েছিলো
যদি ওই মায়াবী অন্ধকারে ডুবে যাও!
তাই প্রতিটি রাস্তার মোড়ে একেকটি কবিতাকে
প্রহরীর মতো দাঁড় করিয়ে দিয়েছি আমি।
যে পথেই যাও বন্ধু, পথভ্রষ্ট হলে তোমার হাত ধরে তোমাকে ফিরিয়ে আনবে সঠিক রাস্তায়।
এইসব কবিতারা আমার প্রহরী, এইসব কবিতারা
আমার সেনাবাহিনী.....এরাই তোমাকে পথ দেখাবে চিরকাল; আমার মুঠো থেকে আঙুল
সরিয়ে নিয়ে যতদূরে যাও তুমি,
কবিতা দিয়ে তোমাকে সমস্ত বিপত্তি থেকে
ঢেকে রাখবো আমি চিরকাল।।
Tuesday, 6 March 2018
এই মানুষটার নাম কী?
একটা মানুষ রোজ হাসিমুখে দিন শুরু করে,
মুখ ধোয় চা খায় সকলের মতো;
তারপরে শুরু জীবনের বেঁচে থাকার
রসদ খুঁজে নেওয়া!
বাঁচার ইচ্ছেগুলো রোজ রাত্তিরে মরে যায়!
রোজ রাত্তিরে.....মানুষটা ফুটপাতের
কুণ্ডলি পাকিয়ে শোয়া কুকুর হয়ে গিয়ে
মাতাল ট্রাকের নীচে মরে বারবার!
কিন্তু পরেরদিন আবার সকালে তো
ঠিক জেগে ওঠে। আবার কলেজে যায়,
স্তাবকবৃন্দের ভীড়ে নিজের মুখ লুকোয়;
সস্তার কিছু ফুটেজখোর
প্রকাশক সম্পাদকের জুতো চাটে!
যার বই পড়েনি একপাতাও, সেই লেখকের
বইয়েও হাততালি দেওয়া রিভিউ দেয়।
তারপর কিছু নেতা, পলিটিক্যাল দাদা,
কিছু বন্ধুর সাথে গরম আলোচনা করে
পার্টি পলিটিক্স!
কোথায় লেনিন মূর্তি ভেঙে দিলো কারা,
কারা বলে তাজমহল তেজ মহালয়
তাদের বিরুদ্ধে কিছু গরম ভাষার কবিতা লেখে।
ভণ্ডামি চূড়ান্তে ওঠে, যখন সে মানুষ বলে,
সিরিয়ার জন্যে আমি দোলউৎসব তুচ্ছ করেছি!
বাস্তবে মানুষটা খুব ভীরু কাপুরুষ;
কোনো নীতিবোধ নেই, আদর্শ চুলোয় যাক নয়।
শুধু মুখনিঃসৃত লাভার মতো
বক্তৃতা ছোটে অবিরাম।
জঁর ফিকশন নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে,
ঋত্বিক ঘটক দেখে বলে ''আহা, আহা"
কথায় কথায় নবারুণের কাব্যি আওড়ায়!
সস্তা আঁতেল সেজে বিখ্যাত হতে শুধু চায়।
চশমা মাইনাস পাওয়ার, এলোমেলো দাড়ি রেখে
সঙ্গে পাঞ্জাবি আর জিন্স......
লোকে নাকি বলবে তবে ইন্টেলেকচুয়াল।
বুদ্ধিজীবী হলে নাকি একটু আধটু খিস্তি দিতে হয়,
একেবারে দু'নম্বরী; উদ্ভট কবিতা দিয়ে
নাকি ন্যাকাচোদা সমাজের রেক্টাম বিট করা যায়!!
এসবই মানুষটার একমাত্র কাজ,
রাজনীতি চোদানো আর অজস্র গান লেখালিখি।
বিলিতি সিনেমা দেখা, বাংলা সিরিয়াল নিয়ে
খিল্লি খেউর; সময় সুযোগ পেলে দু এক পেগ
মেরে দেওয়া.....বিয়ার বা বাংলা যাই হোক!
সিগারেটের পয়সা বাঁচাতে সর্বক্ষণের সঙ্গী
বাঙালীর চিরখাদ্য বিড়ি।
শুধু দিনের শেষেতে এক যন্ত্রণা কুড়ে কুড়ে
খায় এই দু'নম্বরি মানুষটাকে.......!!
একটি নারীর মুখ যন্ত্রণা দেয় খুব.....
এক্ষেত্রে মানুষটা কোনো ভণ্ডামির সুযোগ খোঁজেনা;
বুকের ভেতরে যদি পিতৃপুরুষের রক্ত সত্যি হয়
তবে সেই রক্তের দিব্যি,
মানুষটা আজও একটি মেয়েকে ভালবাসে।
সেই মেয়েটির কাছে প্রতারক মানুষটা
হেরে যায় কেন বারবার?
কেন তার স্মৃতির হাইওয়েতে
ফুটপাথ ঘেঁষে নেড়ি কুকুর হয়ে
প্রতিরাতে ঘুমোয় লোকটা?
অপেক্ষা কেন করে....
মেয়েটি মাতাল ট্রাক সেজে কখন
সবেগে এসে পিষে দিয়ে যায় সেই
নতজানু মানুষটিকে??
Sunday, 4 March 2018
কবিতার প্রতিশ্রুতি ছিলো (গুলজারিশ- ১৪)
কবিতার প্রতিশ্রুতি ছিলো,
দেখা হবে আমাদের!
তারপর অপেক্ষায় আছি বহুদিন
কবিতা আমাকে মৃত্যুর চেয়েও শীতল
দীর্ঘতম অপেক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো এক।
রোদ্দুরের শেষ কণাও কখন নদীর জলে ডুবে গেছে
আঁধার হয়েছে চরাচর;
পাড়ে একা বসে আছে কালপুরুষের মতো
একটুকরো সন্ধ্যার গাঢ় নীল রঙ!
চারপাশে না মধ্যরাত, না মধ্যদুপুর।
সকাল হওয়ার দেরী আছে অনেকটা;
এখন তো আর সন্ধ্যা নামেনা এখানে
শুধু দিন ঢলে যায়---অন্ধকার নেমে আসে!
আমি একা অপেক্ষায়, আমাকে মৃত্যু এসে
ছোঁয়না কখনো; সমুদ্রও ছুঁতে ঘেন্না পায়....
আমাকে কখনো মৃত্যু এসে ছোঁয়না!!
কবিতার প্রতিশ্রুতি ছিলো
কোনো শতাব্দীতে দেখা হবে আমাদের।।
শীত গতপ্রায়
আবার একটা শীত গতপ্রায়; এই শীতেও তুমি জানলেনা হেমন্তের জাতক এক তোমাকে চাইতো অকারণ! মাঘের শেষবেলায় এ শহর অধিক কুয়াশায় ঢেকে যাবে, হু হু উত...
-
ত্রয়োদশী চাঁদের গায়ে ছেলেবেলার আঘাতের দাগ দেখেছি কাল সারারাত, কাল সারারাত চাঁদ তার ছেলেবেলার সমস্ত চোটের দাগ সারাগায়ে মেখে নিয়েছিলো। ...