চল জয়দীপ
ঘুরে আসি দার্জিলিং,
বাতাসিয়া লুপে ভুটিয়া ছেলের খেলা,
যানজটহীন প্যাঁচালো পাহাড়ি পথ
ম্যালের বেঞ্চে কেটে যাবে সারাবেলা।
ভোর চারটেয় পাহাড়ের জিপগাড়ি
পৌঁছে দেবেই প্রিয় টাইগার হিলে,
মনাস্টারিতে প্রথম ভোরের ঘন্টা
স্নিগ্ধতা দেবে সূর্য দু'হাত মেলে।
আমিও তো হারালাম অনেক কিছুই,
শৈলশহর বাংলারই আজো আছে,
বিমল গুরুং ভাঙতে পারেনি কিছুই
এ শহর আজো স্বপ্ন দেখেই বাঁচে।
আঁকাবাঁকা কুয়াশায় ভেজা রাস্তায়
হেঁটে ফেরা যাবে 'সানরাইজ' হোটেলেই,
দু'চারটে ঘোড়া ডাইনে এবং বাঁয়ে,
জল খেতে যাবে পাহাড়ি ঝর্ণাতেই।
জপযন্ত্র ঘোরাবে বৃদ্ধ লামা
গম্ভীর স্তবে, 'মণিপদ্মে হুম',
নেপালি শিশুর গায়ে সোয়েটার জামা
শীতের ভোরে শরীরে লেপের ওম।
জানলাটা ছুঁয়ে যাবে ছেঁড়া গুঁড়ো মেঘ,
হঠাৎ বৃষ্টি হঠাৎ একটু রোদ
ম্যালের রাস্তা গায়েতে শীতের আমেজ,
হিমালয় মাথা উঁচু করে তোলে প্রতিরোধ।
হঠাৎ করেই মনে পড়ে যাবে তাকে,
আমার বুকেতে মিশে থাকা সেই পাগলী
তোমার নামেও মিশে আছে সেই প্রেয়সী,
হে দার্জিলিং; হে পর্বতশৈলী।।
Tuesday, 18 July 2017
চল জয়দীপ
Thursday, 13 July 2017
Wednesday, 12 July 2017
বব ডিলান সুজনেষু
১
শ্যামবাজারের কাছে
একলা ছাতার নীচে
বৃষ্টি নামলো টুপটাপ
বিকেলের রোদ মুছে,
ফিরছে দেবলীনা
ব্যস্ত ফুটপাত ধরে,
নেতাজি দাঁড়িয়ে একা
পাঁচমাথার ওই মোড়ে।
####
অফিস ফেরত যানজট
অকাল বর্ষার ভার,
গাড়ির কাঁচ ঝাপসা
মুছছে উইপার;
দিনের ক্লান্তি ভিজিয়ে
ফিরছে যারা ঘরে,
নেতাজি ভেজেন একা
পাঁচমাথার ওই মোড়ে।
####
কেসি পালের ছাতা
রাস্তাজুড়ে বিজ্ঞাপন,
ভণ্ডুল প্রতিবাদী মিছিল
এই অকাল বরিষণ!
জলকাদা ঘেঁটে ঘেঁটে
ওরা স্কুল থেকে ফেরে,
একলাই দেবলীনা
শ্যামবাজারের মোড়ে।।
(বিঃদ্রঃ- Shelter from the storm)
২
যদি দেখা হয় তাকে বোলো,
আজো প্রতীক্ষায় আছে!
গাঙুর আজো বয়ে চলে
ইতিহাস বুকে নিয়ে বেঁচে।
সর্ষে ক্ষেতে সন্ধ্যা আগত
ফিরছে কৃষক,
বুকে আজো প্রাচীনের ক্ষত
ওড়ে সাদা বক।
মেঘলা বিকেলে ওড়ে চিল
আজো বাংলায়,
হ্রেষা ধ্বনি আজো মাঠে ঘাটে
বল্লাল সেনের ঘোড়ায়।
####
শতাব্দী প্রেয়সী আজো
বসে আছে মুখর বিরহ,
শ্যামা ঘোরে একা সেইখানে
যেখানে কিশোরীর শবদাহ!
এইখানে কোনো প্রেয়সীর
শতাব্দীকালের প্রতিশ্রুতি,
তাকে আর খুঁজে পাবে নাকি
যেমন সে প্রাচীন যুবতী!
বিশালাক্ষী দিয়েছিলো বর
প্রেম বেঁচে থাকবে সেইখানে,
সন্ধ্যার শাঁখে মিশে থাকে
আলপনা আঁকা উঠোনে।
####
মধুকর ডিঙা থেকে খোঁজে
চাঁদ তাকে কালিদহ পাড়ে,
সন্ধ্যার মতো মহাকাল
ঘনিয়ে উঠছে চরাচরে।
কবিরঞ্জনও গান বাঁধে
না দেখা সে কিশোরীকে চেয়ে,
তাকে খুঁজে পাননি ভানু সিংহ
শিলাইদহের বুকে বয়ে।
তবু যদি দেখা হয় বোলো
আজো আশায় বসে আছে,
কতো নদী আজো বয়ে চলে
এই বিশ্বাস নিয়ে বেঁচে।।
(বিঃদ্রঃ- If you see her say hello)
Tuesday, 11 July 2017
আরাকু
ভদ্রলোক, তাঁর স্ত্রী আর বছর পাঁচেকের ছোট্ট মেয়েকে দেখে প্রথম দর্শনেই বুঝেছিলাম বাঙালি। কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গের বাইরে এসে বাঙালির মুখ দেখলে বেশ ভালো লাগে। আর এই বিশাখাপট্টনমে এসে অবধী একটিও বাঙালির মুখ দেখিনি; সবাই দক্ষিণী, সর্বত্র তেলুগু। যেচে আলাপ করাটা কোনোদিনই আমার ধাতে পোষায়না; ভদ্রলোক নিজেই যেচে আলাপ করলেন আমার হাতে বাংলা বই দেখে, "বাঙালি?"
"হ্যাঁ, নমস্কার।"
"কোথা থেকে আসছেন?"
"কলকাতা, আপনি?"
"হাওড়া; এখানে কি শুধুই ট্যুর নাকি...?"
"না না; নেহাৎ হলিডে। আপনি কি কোনো কাজে?"
"নাঃ! আমিও....হলিডে। এই যে আমার স্ত্রী শ্রুতি; আর মেয়ে শেলি; আর...আমি বোধি; বোধিসত্ত্ব মুখার্জি।"
নিজের পরিচয়টা দিলাম; আমি লেখক শুনে স্বামী স্ত্রী দুজনেই অবাক। শ্রুতি বললেন, "আপনার লেখা যদিও পড়িনি, কিন্তু সামনে থেকে একজন লেখককে দেখছি এইতো বড় কথা।"
বিনয় করে হাসলাম একটু। বোধিসত্ত্বর বয়স সম্ভবত ত্রিশ থেকে পঁয়ত্রিশের মধ্যে; যুবক মানুষ। বলিষ্ঠ শরীর, চওড়া কাঁধ; এরকম কাঁধ দায়িত্ব নিতে পারে মনে হয়। এলোমেলো চুল মাথায়, গাল একটু ভাঙা; মানুষটার মোটের ওপর সুদর্শন চেহারা বলা যায়। শ্রুতি ছাব্বিশ-সাতাশের ওপরে হবেননা; ফর্সা ছিপছিপে চেহারা, তিক্ষ্ম নাক, সাদা কালো প্রিন্টেড শালোয়ার কামিজ আর ওড়না পরিহিত। কপালে হাল্কা সিঁদুরের ছোঁয়া, হাতে সরু শাঁখা পলার সাথে ঘড়ি, গলায় সরু সোনালি চেন। সুন্দরী বলা না গেলেও সুশ্রী বলাʼই যায়; ওঁদের মেয়েটির বয়স পাঁচ ছয় বছর হবে। ওঁরা দুজনেই অনেক কথা বলছিলেন; মাঝে মাঝে মেয়েটার অনর্থক বকবকের সাথে সামালও দিচ্ছিলেন। রিস্টওয়াচে সবে সাতটা; আরাকু পৌঁছতে এখনো পাঁচঘন্টা। ট্রেনের দুলুনিতে চোখে ঘুমের আঠা জড়িয়ে আসছে; শ্রুতি এখন মেয়েকে কেক খাওয়াচ্ছেন, আর বোধি চোখ বড় বড় করে মেয়েকে তার ফেভারিট ʼছোট্টা ভীমʼ এর গল্প শোনাচ্ছেন। আমি দেখছিলাম এই সুখী পরিবারটাকে.....এক দম্পতি, তাঁদের ছোট্ট মেয়ে, হাওড়ার ছোটো একটা ফ্ল্যাট। আর্থিক অবস্থা মধ্যবিত্ত; তবু এই অভাবের বাজারেও এরা দুʼবেলা ভাত খায়, প্রতি রবিবার মাছ বা চিকেন। মাসের প্রথমে হয়তো একটু বিলাসিতা.....একদিন রান্না না করে কোনো ছোটো রেস্টোব়্যান্টে ডিনার করা, বা বিগবাজারে টুকটাক কেনাকাটা। মধ্যবিত্ত গৃহস্থের ছোটো ছোটো ঘটনার মধ্যে দিয়ে সুখ খুঁজে নেওয়া; অল্পে সুখ অল্পে দুঃখ; ছোটো খাটো মান অভিমান! বিয়ে হয়েছে কʼদিন? বড়জোড় বছর সাতেক। প্রেমের বিয়ে নিশ্চয়ই...একটা দৃশ্য দেখছিলাম চোখ বুজিয়ে সিগ্রেটে টান দিয়ে; কলেজ স্ট্রিটের রাস্তা। হাত ধরাধরি করে দুটি তরুণ তরুণি হেঁটে যাচ্ছে; মেয়েটির নাম শ্রুতি, ছেলেটির নাম বোধি। মেয়েটি কলেজ থেকে ক্লাস কেটে বেড়িয়ে এসেছে, ছেলেটি অফিসে মায়ের অসুখ বলে ছুটি চেয়ে! ওদের জন্য চুরি করা দুর্লভ এক একটা বিকেল; পকেটে পয়সা বেশি থাকলে একটা ট্যাক্সি ডেকে উদ্দেশ্যহীনের মতো ঘোরা। তারপর.....তারপর বাড়িতে জানাজানি! শ্রুতির গালে বাবা চড় মারলেন; সেই প্রথম। ছোটো থেকে গায়ে হাত তোলেনি বাবা; সেই বাবা কিনা আজ ওকে...! কঠিন গলায় বাবা বলছেন, "ছেলেটাকে ভুলে যাও। পড়াশোনা করো; এসব আমি মেনে নেবোনা!" বাবার মুখ চোখ কঠিন; মা চোখ মুছে পাশের ঘরে চলে গেলেন। শ্রুতি বাবার ওপর অভিমানে হাতে ছুরি চালালো.....রক্তারক্তি কান্ড। এই সব সময় বাংলার সব বাবা আর মেয়েকে একরকম লাগে; জীবনের একটা অধ্যায়। হাসপাতালে মেয়ের বেডের পাশে দাঁড়িয়ে ভদ্রলোক নিশ্চয়ই বলেছিলেন, "তোর ভালো চাই বলেই বলি রে মা! আমার মারʼটা দেখলি? ভালোবাসাটা দেখলিনা? আমি আর তোর মা কত কষ্ট করে বড় করেছি তোকে....!" বাবা ভদ্রলোকটির চোখে জল এসে গেছিলো; মা কাঁদছিলেন ডুকরে ডুকরে.....তারপরে সেইদিন। বোধির সাথে ফাল্গুনের এক শুভ দিনে শুভ পরিণয়; কেউ দিলো ডিনার সেট, কেউ দুল, কেউ চুড়ি দুʼগাছা, কেউ শাড়ি, আংটি। মালা বদল; বাসরঘরে কয়েকজন বন্ধু বান্ধব, হাসি ঠাট্টা; বিরিয়ানি কবিরাজি চিকেন চাঁপ। তারপর হনিমুন.....হয়তো পুরী। সমুদ্রের ধারে হোটেল; বারান্দায় বসে সমুদ্র দেখা, ঝিনুক কুড়োনো, চাঁদের আলোয় বিরাট একটা আয়নার মতো বঙ্গোপসাগর; এক সপ্তাহ স্বপ্নের ঘোরের মধ্যে কেটে গেল! তার দেড় বছর পরে......ঘন ঘন ডক্টরের কাছে যাওয়া; তারপর....এলো এই শেলী। বিরক্ত হলেন হয়তো বোধির বিধবা মা; তিনি চেয়েছিলেন আর পাঁচটা গল্পের মতো ছেলে হোক। তারপর....মায়ের সাথে ছেলে আর ছেলের বৌয়ের বনিবনা নেই! অফিস থেকে বাড়ি ফিরে বোধির রোজ দেখা জানলার ধারে শ্রুতি দাঁড়িয়ে, চোখে জল, ঠোঁট কামড়ে কান্না চাপতে চাপতে বলে, "তুমি অন্য কোথাও আমায় নিয়ে চলো প্লিজ; আর ভালোলাগছেনা এখানে। মা রোজ রোজ এরকম ব্যবহার করেন কেন আমার সাথে!" বোধি শ্বান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করতো হয়তো; ফিসফিস করে বলতো, "একটু গুছিয়ে নিই..." তারপর একদিন হয়তো অফিস থেকে ফিরে বলেছিলো, "শ্রুতি, হাওড়ায় এক কলিগ কম দামে ফ্ল্যাট দেখেছে; ডিসেম্বরে ওখানে চলে যাবো আমরা সব্বাই..." তারপর বিছানায় শোয়া শেলিকে কোলে তুলে নিয়ে "....কি শেলি? আমার বুচকু, আমার ফুচু, আমার ঘুচু, ভুত্তু...যাবে তো?" তারপর আরেকটি দৃশ্য; সেই কলেজ স্ট্রিট, শেলি হাত ধরে আছে একটি যুবকের। এর নাম এখনো কেউ জানেনা; আমি দিলাম সিদ্ধার্থ, সিড! তারপরের দৃশ্যে, বোধির চোখে চশমা; মাথার চুলে অল্প রুপোলি ছোঁয়া, শেলির গালে চড় মারলো টেনে; শ্রুতি চোখ মুছে ঘর থেকে পাশের ঘরে চলে গেলো........সব একরকম! শেলি আর সিদ্ধার্থও একদিন তাদের মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে এরকমই বোররা গুহালূ দেখতে যাবে আরাকু ভ্যালির ট্রেনে চেপে; কিন্তু সেদিনও কোনো লেখক ওদের সহযাত্রী হবে কি?...........
"দেববাবু...উঠুন; আরাকু স্টেশন এসে গেছে।" ধড়মড় করে উঠলাম; দুপুরের রোদ চুঁইয়ে পড়ছে ট্রেনের জানলা দিয়ে, বোধিই ডেকে দিলো। শ্রুতি হেসে বললো,
"ঘুমিয়ে পড়েছিলেন তো? তা তো পড়তেই পারেন...এতো ভোরে!"
হাতের বইটা মেঝেতে পড়ে গিয়েছিলো, তুলে দিলো বোধি। লজ্জিত ভাবে বললাম, "থ্যাঙ্ক ইউ মি.মুখার্জি!" ছোট্ট পাহাড়ে ঘেরা ভ্যালি স্টেশনটায় নেমে কোনো গাড়ির জন্য হাঁটা দিলাম; ওরাও বাইরের বাস স্ট্যান্ডটার দিকে এগোলো। দাঁড়িয়ে পড়ে চেয়ে রইলাম এই সুখী ছোট্ট পরিবারটার দিকে; যতক্ষণ না ওরা হারিয়ে যায় চোখের বাইরে। দৃশ্যটা চিরকালের জন্য হারিয়ে যাবে তারপরেই; কিন্তু একটা গল্প রয়ে যাবে আমার জন্য, কলকাতায় ফিরেই লিখতে হবে; নাম দেবো, আরাকু।।
------------------
Monday, 10 July 2017
আগে বোঝা যায়না
হোটেলটায় ঢুকেই বিনুদা ওরফে আমাদের বিনায়ক ঘোষ নাক সিঁটকোলেন, "ইইইস!এ...এইখানে ডিনার করতে হবে? কি নোংরা কি নোংরা!ʼʼ সুব্রত মুচকি হেসে বললো, "শুধু ডিনার নয় বিনুদা, আজ রাতে এই হোটেলেই আমাদের তিনজনের থাকারও ব্যবস্থা।ʼʼ বিনুদা চোখ পাকিয়ে বললেন, "জানি জানি হে ছোকরা, তুমি আর ফাজলামো কোরোনা তো!ʼʼ এই টু-পাইস হোটেলটা মাপে খুবই ছোটো, দুটো মাত্র কাঠের ঘর। পাশের ছোট ঘরটা রান্নাঘর, আর এই ঘরে ছোট বড় ছʼটা বেঞ্চ পাতা। যদিও মুখে সুব্রত বা আমি যাই বলি, ঘরটা কিন্তু আমার নিজেরও খুব উৎকৃষ্ট মনে হচ্ছিলোনা; কিন্তু উপায়ন্তর কি? এই বেঞ্চেই তিনজনকে শুতে হবে, তিনজনের সঙ্গের তিনটে ব্যাগ বালিশ হিসেবে মাথার নিচে দিয়ে নেবো। বিজয় রাধে একটা বেঞ্চে বসে আঙুলে গাড়ির চাবির রিংটা ঘোরাচ্ছিলো, আমি ওর দিকে চেয়ে বললাম, "বিজয়, তুমি সারারাত এই দুর্যোগে গাড়ির মধ্যে থাকতে পারবে? ছটা বেঞ্চ তো রয়েছে, ঠিক হয়ে যেতো ভেতরেই।ʼʼ বিজয় বললো, "নেহি সাব, ম্যায় কার মে হি ঠিক হুঁ; আপলোগ মেরে লিয়ে পরিশন মাত হুইয়ে। কাল সুবহা বরষ কুছ কমতে হি হামলোগ চলে যাউঙ্গা।ʼʼ বাইরে বৃষ্টির শব্দ কমছে তো মনে হচ্ছেনা, বরং বাড়ছে; মাঝে মাঝে আকাশ চিরে ʼক-ক্ক-ক-ড়া-ৎʼ শব্দে বজ্রপাত শুনে ভয় লাগছে। হোটেলের সদস্য দুʼজন, মালিক আর রাঁধুনি; মালিক নিজেই পরিবেশনের দায়িত্বে থাকেন। এমনিতে সন্ধ্যের পরে এই হোটেলে আর কেউ আসেনা, কারণ বোররা কেভস বন্ধ হয়ে যায় বিকেল পাঁচটায়। বলাবাহুল্য, আমরা তিনজনেই দক্ষিণ কলকাতার একটা বেসরকারি অফিসে জব করি; সুব্রত আর আমি প্রায় সমবয়সী হলেও বিনুদা অনেকটাই সিনিয়র কলিগ, আর তিনবছর পরেই রিটায়ার করবেন। কিন্তু কিভাবে যেন অফিসের এতজন স্টাফের মধ্যে আমাদের তিনজনের সম্পর্কটা ভীষণ ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছে, এতোটাই বন্ধুত্ব যে কখনো কখনো এটাই মনে থাকেনা যে বিনুদা আমাদের থেকে প্রায় পঁচিশ বছরের বড়। অনেকদিন ধরে প্ল্যান করার পর অফিসে দিনদশেকের ছুটি নিয়ে তিনজনে এসেছি ভাইজাগে; অনেকদিন ধরেই ট্যুর প্ল্যান করা সত্ত্বেও কিছুতেই বেড়িয়ে পড়া আর হচ্ছিলোনা। অবশেষে সুব্রত স্ত্রী আর মেয়েকে বাপের বাড়ি রেখে, আর বিনুদা ওঁর স্ত্রীʼকে দূর্গাপুরে ছেলের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে তিনজনে চলে এলাম; সংসার করিনি বলেই হয়তো আমার দিক থেকে কিছুটা ঝাড়া হাত পা ছিলো। গত তিনদিনে সীমাচলম, নৃসিংহ মন্দির, লাইট হাউস দেখার সময়ও আবহাওয়া মোটামুটি অনুকূল ছিলো; কিন্তু আজ আমাদের হোটেল থেকে স্কর্পিও কার ভাড়া নিয়ে প্রায় সাতঘন্টা পাহাড়ি রাস্তায় ঘুরে বিকেল চারটের সময় যখন বোররা গুহালু পৌঁছোলাম, তখন আকাশের পশ্চিম দিক অন্ধকার হয়ে এসেছে; মাঝে মাঝে বিদ্যুৎও চমকাচ্ছে। শেষে যখন বোররা গুহালু দেখে গাড়িতে উঠবো ভাবছি, তখনই হঠাৎ আকাশ ভেঙে অঝোর ধারায় বৃষ্টি নামলো। এই টু-পাইস হোটেলে তখনকার মতো মাথা গুঁজতে ঢুকে ওয়েট করতে করতেই সন্ধ্যা হয়ে এলো চারপাশে, কিন্তু বৃষ্টি থামার বদলে বেড়ে গেলো আরো। আমাদের ড্রাইভার বিজয় রাধে বাধ্য হয়েই বলেছিলো, এই রকম বৃষ্টিতে অন্ধকারে পাহাড়ি ল্যান্ডিংয়ে গাড়ি ড্রাইভ করা বিপজ্জনক, তাই আজ রাতটা এখানেই থেকে যাওয়া উচিত; অগত্যা এই পান্ডব বর্জিত এলাকায় হোটেলে নাইট স্টেʼর ডিসিশন। হোটেল মালিক ভদ্রলোক চারটে প্লেটে রুটি আর চিকেন কষা আমাদের সামনে এনে রাখতে রাখতে বললো, "জানতে হ্যায় সাব? ইস পাহাড়ি জঙ্গল মে ভেড়িয়া রহেতা হ্যায়, ম্যায় দো বার দেখা ভেড়িয়ে কো।ʼʼ বিনুদা বেঞ্চে বসেই প্রায় লাফিয়ে উঠে বললেন, "ভেড়িয়া মানে?? নে...ন্নেকড়ে! ওরেব্বাবা; বলো কীহে?ʼʼ তারপর আমার দিকে চেয়ে কপট রাগের গলায় বললেন, "এই....এই যে কিংশুক!! তোমাদের হাতে পড়েই আমাকে এখানে আসতে হয়েছে! কোত্থাও কিচ্ছুনা; হঠাৎ এই পাহাড়ি এঁদো জায়গায় আসবে বলে নেচে উঠলে; আমি তখনই বলেছিলাম পুরী, দার্জিলিং বা কাশি-টাশি যেতে। কি আছে হে এখানে, অ্যাঁ? পাহাড়ি ল্যান্ডিংয়ে পেটের নাড়িভূঁড়ি উলটে গাড়ি চড়ে এখানে এলুম এই একটা গুহা দেখতে; কোনো মানে হয় নাকি? হুঁহ!ʼʼ গজর গজর করতে করতেই চিকেনের ঝোলে চুবিয়ে একটুকরো রুটি মুখে দিলেন বিনুদা, যথারীতি আমরাও খাওয়া শুরু করে দিয়েছি। এখানে আর তেমন কোনো হোটেল বা দোকান কিছু নেই, রাস্তার ওপারে শুধু একটা বিভিন্ন রকম টুপির দোকান দেখেছিলাম, তাও বৃষ্টি নামার আগেই ভদ্রলোক দোকান বন্ধ করে চলে গেছেন। সত্যি বলতে কি, এই এলাকায় আর কোনো সেরকম জনবসতিও চোখে পড়লোনা; লালচে রুক্ষ পাহাড়ের গা ঘেঁষে শুধু এই রকম দুʼতিনটি দোকান হোটেল। বাইরে ঝিমঝিম করে বৃষ্টি পড়ছে একটানা, পাহাড়ের গায়ে দুʼপাশের কফি বাগানের পাতায় পাতায় চড়বড় শব্দ হচ্ছে, মাঝে মাঝে বিদ্যুতের আলোয় হোটেলের ভেতরটাও গোলাপী হয়ে যাচ্ছে। সুব্রত একটুকরো চিকেন মুখে পুরে বললো, "যাই বলিস কিংশুক; বোররা কেভস না এলেই ভালো হতো এখন মনে হচ্ছে। ফালতু টাইম ওয়েস্ট.....ধুসসস!ʼʼ সাথে সাথেই আমাদের সবাইকে চমকে দিয়ে ভাঙা ভাঙা হিন্দিতে কে বলে উঠলো, "এটুকুতেই বলছেন টাইম নষ্ট? আশ্চর্য!ʼʼ কথাটা শোনার সাথে সাথেই আমাদের চোখ চলে গেলো ঘরের কোণের বেঞ্চিতে; আশ্চর্য! এতক্ষণ এই ছোট্ট হোটেলে আছি, কই? এতক্ষণ তো এই লোকটাকে দেখিনি! আমরা আসার পরে এলে তো টের পেতাম, কারণ আমাদের মুখোমুখিই দরজা। কালো রেনকোট পরা বছর চল্লিশেকের একজন ভদ্রলোক, দেখলেই বোঝা যায় দক্ষিণী অর্থাৎ এই এলাকারই। হোটেল মালিক বললেন, "আপনি?ʼʼ ভদ্রলোক খসখসে ভাবলেশহীন গলায় বললেন, "অনেকক্ষণ এসেছি, যখন বৃষ্টি শুরু হয়েছে। খেয়াল করেননি।ʼʼ হোটেল মালিক বললেন, "ওওও, আচ্ছা! হবে হয়তো...আপনাকে কি দেবো স্যার?ʼʼ ভদ্রলোক সেরকমই খসখসে কন্ঠে বললেন, "কিস্যু লাগবেনা আমার, রাতটা কাটিয়ে চলে যাবো।ʼʼ হোটেল মালিক একটু ইতস্তত করে রান্নাঘরের দিকে চলে গেলেন, বুঝলাম ওঁ নিজেও কিছুটা অবাক! সত্যিই; এঁকে তো একবারও এই ঘরে দেখেছি মনে পড়ছেনা। ভদ্রলোক এবার সুব্রতর দিকে চেয়ে বললেন, "আপনি সময় নষ্টর কথা বলছিলেননা? আমি আপনাকে একটা এমন ঘটনা বলতে পারি, যেটা শুনলে আপনারা বুঝবেন সময় নষ্ট কাকে বলে।ʼʼ আমরা কিছুটা হতবাক হয়ে চেয়েছিলাম ওঁর দিকে, ঘরে কেমন একটা অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে; সুব্রত একটা লেগপিসে কামড় দিতে দিতে বললো, "বলুন!ʼʼ ভদ্রলোক মাথার ব্যাকব্রাশ টানটান চুলে আঙুল চালিয়ে বললেন, "এই বোররা গুহালুর কাছেই.... দুʼহাজার দুই সালের ঘটনা। আজকের দিনে.....মানে এই এগারোই ডিসেম্বরই ঘটেছিলো ঘটনাটা; তখনো এখানে এই হোটেলটা ছিলোনা। হঠাৎ ভাইজাগের অন্ধ্র ব্যাঙ্ক লুঠ করে পালালো কুখ্যাত ক্রিমিনাল ভেঙ্কট আইয়ার; লোকটা দাগী আসামী, কিছুতেই ওকে ধরতে পারছিলনা ভাইজাগ পুলিশ। কতবার যে ধরা পড়তে পড়তেও পড়েনি ও, অদ্ভুত ক্ষিপ্রতায় ঠিক বেঁচে যেতো। কি করেনি ভেঙ্কট? মার্ডার, ছিনতাই, কিডন্যাপ, ব্যাঙ্ক রাবার্সিঙ্গ সব কিছু ; সবাই বলতো ভেঙ্কটের নার্ভ স্টিলের মতো। কিন্তু এবারের ব্যাঙ্ক লুঠের সময় পুলিশ আগে থেকেই কোনোভাবে খবর পেয়েছিলো, তাই পুরো ব্যাঙ্কেই একটা ফাঁদ পাতা হয়েছিলো পুলিশের, কিন্তু তবুও-----দশ লাখ টাকা নিয়ে ঠিক পালিয়ে গেলো ভেঙ্কট। কিন্তু হাল ছাড়লেননা পুলিশ অফিসার আনন্দ পাণিকর, তিনি ভেঙ্কটের পিছু নিয়ে এসে পৌঁছলেন আরাকু ভ্যালিতে। সেদিনটা ছিলো পূর্ণিমা, ফুলমুন নাইট; জ্যোৎস্নার আলোয় হঠাৎই অফিসার পাহাড়ের বিপরীত দিকের ঢালু ল্যান্ডিংয়ে দেখতে পেলেন ভেঙ্কটকে! ভুল হওয়ার কথা নয়, পূর্ণিমার চাঁদের রুপোলি আলোয় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিলো ওকে। অফিসার ছুটে গেলেন ওর দিকে, কিন্তু......হঠাৎ পা পিছলে গেলো ওঁর; গড়িয়ে গেলেন পাহাড়ি ল্যান্ডিং বেয়ে! কিন্তু ভগবান মুর্গ্যানের দয়ায় একটুর জন্য বেঁচে গেলেন ওঁ, পাহাড়ি ঢালু ল্যান্ডিংয়ে আটকে গেলো ওঁর দেহটা; অফিসার প্রবল ভয়ে আর যন্ত্রণায় আর্তনাদ করে উঠলেন। একপাশে খাড়াই পাহাড়, অন্যদিকে খাদ, ওঁর থেকে মাত্র তিন-চার ইঞ্চি দূরে; অফিসার বেশ বুঝতে পারছিলেন ওঁর মৃত্যু আসন্ন, এখান থেকে বেঁচে ফেরা এককথায় অসম্ভব; তার ওপর ওঁর হাঁটুতে অসহ্য যন্ত্রণা, বোধহয় গুঁড়ো হয়ে গেছে মালাইচাকি। হাত দিয়ে হাঁটু চেপে ধরে যন্ত্রণায় চিৎকার করছিলেন ওঁ, হু হু করে রক্ত বেড়োচ্ছিলো। এই সময় হঠাৎ ওপর থেকে শুনতে পেলেন একটা চিৎকার, ʼঅফিসার....অফিসার! আপনি কি জীবিত?ʼ অফিসার দাঁত দিয়ে ঠোঁট চেপে ধরলেন যন্ত্রণায়, ওঁর কপালে, গালে ঘাম জমে উঠে কাটা ছড়ার ওপরে চিনচিনে জ্বালা ধরিয়ে দিচ্ছিলো। কোনোভাবে বললেন, ʼকে-ক্কে?ʼ ওপর থেকে পাহাড়ে পাহাড়ে ঘা খেতে খেতে উত্তর এলো, ʼআমি ভেঙ্কট। আপনি ওখানেই ওয়েট করুন, আমি চেষ্টা করছি আপনাকে রেসক্যু করার।ʼ প্রবল যন্ত্রণায় অফিসারের মুখ কুঁচকে যাচ্ছিলো, ওঁ কোনোভাবে শ্বাস টেনে টেনে উত্তর দিলেন, ʼশোনো ভেঙ্কট....! আমি কিন্তু তোমাকে.....রেসক্যু হওয়া মাত্র......অ্যারেস্ট করবো!ʼ ওঁর চিৎকারটা প্রতিধ্বনি হয়ে নিজের কাছেই ফিরে এলো, কেউ কোনো উত্তর দিলোনা। ভেঙ্কট কি তবে পালালো? হাঁটুতে হাত দিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে মুখ বন্ধ করে রাখলেন অফিসার, কারণ আরাকু ভ্যালির এই রাস্তা সূর্য ডোবার পরে মোটেও সুরক্ষিত নয়; এই সময় এখানে বুনো কুকুর ঘুরে বেড়ায় নাকি। বসে থাকতে থাকতে প্রায় আধঘন্টা-চল্লিশ মিনিট কেটে গেলো; আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন অফিসার, হঠাৎ আবার শোনা গেলো ভেঙ্কটের কন্ঠস্বর, ʼঅফিসার! আপনি কি এখনো বেঁচে আছেন? রেসপন্স করুন, নইলে শুধু শুধু সময় নষ্ট করবোনা।ʼ অফিসার চেঁচিয়ে বললেন, ʼহ্যাঁ আছি ভেঙ্কট; কিন্তু আমাকে রেসক্যু করার আগে চিন্তা করে নাও। রক্ষা পাওয়া মাত্র তোমাকে অ্যারেস্ট করবো, ভুলে যেওনা তুমি.....একজন ক্রিমিনাল! তোমার নামে.....অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট আছে।ʼ ভেঙ্কট চেঁচিয়ে বললো, ʼথামুন। আমি দড়ি ফেলছি, এই দড়ি নিজের কোমরে বেঁধে নিয়ে ধীরে ধীরে উঠে আসুন; দড়ির আরেকপ্রান্ত বাঁধা আছে আমার কোমরে!ʼ তারপর দুজনে তিলে তিলে নিজেদের সমস্ত শক্তি দিয়ে ওঠার চেষ্টা চালাতে শুরু করলো; খাড়াই ল্যান্ডিং বেয়ে দুʼপা নেমে আসে ভেঙ্কট, পরক্ষণেই দুʼপা উঠে আসেন অফিসার। মনে রাখবেন, ওরা কেউই পাহাড়ে ওঠার ব্যাপারে পটু ছিলনা খুব একটা; প্রায় একঘন্টার চেষ্টায় অবশেষে অফিসার উঠে এলেন ওপরে। ভেঙ্কট মুচকি হেসে বললো, ʼএবার বলুন....কি করবেন আমাকে?ʼ অফিসার হাঁটুর যন্ত্রণা চেপে জোড় করে ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটিয়ে ʼথ্যাঙ্ক ইউ ভেঙ্কট....ʼ বলেই সজোড়ে একটা ঘুষি চালালেন ভেঙ্কটের মুখ লক্ষ্য করে, কিন্তু ওঁর শরীরে সেই জোড় ছিলোনা; পা টলমল করছে, হাঁটু দিয়ে ক্রমাগত রক্ত ঝরছে, তাই ঘুষিটা হাওয়ায় বেড়িয়ে গেলো ভেঙ্কটের মুখের পাশ দিয়ে। কিন্তু অফিসার নিজে টাল সামলাতে পারলেননা, পা হড়কে পড়ে গেলেন নিচের খাদে! আর----যেহেতু ভেঙ্কটের কোমরের সাথে ওঁর দড়ি একাংশ বাঁধা ছিলো, তাই দুজনেই একসাথে খাদে পড়ে গেলো ওরা। এবার বলুন; সময় নষ্ট কাকে বলে?ʼʼ ভদ্রলোক গল্প শেষ করে সবার মুখের দিকে চাইলেন একবার; বাইরে বৃষ্টি বেড়ে গেছে মনে হয়, তারসাথে বাজের ডাকও। আমিই নীরবতা ভঙ্গ করে বললাম, "ঘটনাটা বেশ ভালোই, সন্দেহ নেই।ʼʼ বিনুদা এতোক্ষণ খাওয়া শেষ করে চুপচাপ সিগারেটে টান দিচ্ছিলেন, এবার হেসে বললেন, "এটা সত্যি ঘটনা?ʼʼ ভদ্রলোক বললেন, "হ্যাঁ, একদম সত্যি।ʼʼ বিনুদা বললেন, "এই ঘটনার আই উইটনেসও নেই নিশ্চয়ই?ʼʼ ভদ্রলোক দুদিকে মাথা নেড়ে বললেন, "নাঃ! ইভিন....আজো কেউ জানেনা যে অফিসার আনন্দ পাণিকর বা ভেঙ্কট কোথায় হারিয়ে গেছিলো।ʼʼ বিনুদা এবার সবকটা দাঁত বের করে একটা ছেলেমানুষি হাসি হেসে একটা মোক্ষম প্রশ্ন করলেন, "ওহহো; তাহলে তো এটাই মানে দাঁড়াচ্ছে যে আপনি সেই অফিসার বা ভেঙ্কট কারোর একটা প্রেতাত্মা, তাইনা? হেঁ হেঁ হেঁ!ʼʼ ভদ্রলোক এই প্রথম ঠোঁটের কোণে অল্প হাসির রেখা খেলিয়ে বললেন, "ঠিক ধরেছেন। আমিই ভেঙ্কট আইয়ার!ʼʼ সাথে সাথেই আমাদের সবাইকে চরম অবাক করে দিয়ে চেয়ার থেকে কর্পূরের মতো উবে গেলেন। আমার পাশের চেয়ারটা ʼদুমʼ করে পড়ে যাওয়ার শব্দ হলো, বোধহয় অজ্ঞান হয়ে গেলেন বিনুদা।।
________________
অলঙ্করণ - সুশোভন রফি
শীত গতপ্রায়
আবার একটা শীত গতপ্রায়; এই শীতেও তুমি জানলেনা হেমন্তের জাতক এক তোমাকে চাইতো অকারণ! মাঘের শেষবেলায় এ শহর অধিক কুয়াশায় ঢেকে যাবে, হু হু উত...
-
ঝড়ের উত্তাল দাপটে জাহাজটা কেঁপে কেঁপে উঠছে বারংবার। চারʼপাশে কোনো কিনারা কোনো চর দেখা যাচ্ছেনা; বিদ্যুতের উদ্যত শিখা আকাশটাকে চিরে দিচ্ছে ফা...
-
বাংলা ভাষাটা আমার রন্ধ্রে জাগে সুখ অসুখ আর অভিমানে অনুরাগে, দুই অলিন্দে নিলয়ের কোণে ঘোরে পান্নালালের বাঁশির সন্ধ্যারাগে। হৃদপিন্ডের প্রক...