হোটেলটায় ঢুকেই বিনুদা ওরফে আমাদের বিনায়ক ঘোষ নাক সিঁটকোলেন, "ইইইস!এ...এইখানে ডিনার করতে হবে? কি নোংরা কি নোংরা!ʼʼ সুব্রত মুচকি হেসে বললো, "শুধু ডিনার নয় বিনুদা, আজ রাতে এই হোটেলেই আমাদের তিনজনের থাকারও ব্যবস্থা।ʼʼ বিনুদা চোখ পাকিয়ে বললেন, "জানি জানি হে ছোকরা, তুমি আর ফাজলামো কোরোনা তো!ʼʼ এই টু-পাইস হোটেলটা মাপে খুবই ছোটো, দুটো মাত্র কাঠের ঘর। পাশের ছোট ঘরটা রান্নাঘর, আর এই ঘরে ছোট বড় ছʼটা বেঞ্চ পাতা। যদিও মুখে সুব্রত বা আমি যাই বলি, ঘরটা কিন্তু আমার নিজেরও খুব উৎকৃষ্ট মনে হচ্ছিলোনা; কিন্তু উপায়ন্তর কি? এই বেঞ্চেই তিনজনকে শুতে হবে, তিনজনের সঙ্গের তিনটে ব্যাগ বালিশ হিসেবে মাথার নিচে দিয়ে নেবো। বিজয় রাধে একটা বেঞ্চে বসে আঙুলে গাড়ির চাবির রিংটা ঘোরাচ্ছিলো, আমি ওর দিকে চেয়ে বললাম, "বিজয়, তুমি সারারাত এই দুর্যোগে গাড়ির মধ্যে থাকতে পারবে? ছটা বেঞ্চ তো রয়েছে, ঠিক হয়ে যেতো ভেতরেই।ʼʼ বিজয় বললো, "নেহি সাব, ম্যায় কার মে হি ঠিক হুঁ; আপলোগ মেরে লিয়ে পরিশন মাত হুইয়ে। কাল সুবহা বরষ কুছ কমতে হি হামলোগ চলে যাউঙ্গা।ʼʼ বাইরে বৃষ্টির শব্দ কমছে তো মনে হচ্ছেনা, বরং বাড়ছে; মাঝে মাঝে আকাশ চিরে ʼক-ক্ক-ক-ড়া-ৎʼ শব্দে বজ্রপাত শুনে ভয় লাগছে। হোটেলের সদস্য দুʼজন, মালিক আর রাঁধুনি; মালিক নিজেই পরিবেশনের দায়িত্বে থাকেন। এমনিতে সন্ধ্যের পরে এই হোটেলে আর কেউ আসেনা, কারণ বোররা কেভস বন্ধ হয়ে যায় বিকেল পাঁচটায়। বলাবাহুল্য, আমরা তিনজনেই দক্ষিণ কলকাতার একটা বেসরকারি অফিসে জব করি; সুব্রত আর আমি প্রায় সমবয়সী হলেও বিনুদা অনেকটাই সিনিয়র কলিগ, আর তিনবছর পরেই রিটায়ার করবেন। কিন্তু কিভাবে যেন অফিসের এতজন স্টাফের মধ্যে আমাদের তিনজনের সম্পর্কটা ভীষণ ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছে, এতোটাই বন্ধুত্ব যে কখনো কখনো এটাই মনে থাকেনা যে বিনুদা আমাদের থেকে প্রায় পঁচিশ বছরের বড়। অনেকদিন ধরে প্ল্যান করার পর অফিসে দিনদশেকের ছুটি নিয়ে তিনজনে এসেছি ভাইজাগে; অনেকদিন ধরেই ট্যুর প্ল্যান করা সত্ত্বেও কিছুতেই বেড়িয়ে পড়া আর হচ্ছিলোনা। অবশেষে সুব্রত স্ত্রী আর মেয়েকে বাপের বাড়ি রেখে, আর বিনুদা ওঁর স্ত্রীʼকে দূর্গাপুরে ছেলের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে তিনজনে চলে এলাম; সংসার করিনি বলেই হয়তো আমার দিক থেকে কিছুটা ঝাড়া হাত পা ছিলো। গত তিনদিনে সীমাচলম, নৃসিংহ মন্দির, লাইট হাউস দেখার সময়ও আবহাওয়া মোটামুটি অনুকূল ছিলো; কিন্তু আজ আমাদের হোটেল থেকে স্কর্পিও কার ভাড়া নিয়ে প্রায় সাতঘন্টা পাহাড়ি রাস্তায় ঘুরে বিকেল চারটের সময় যখন বোররা গুহালু পৌঁছোলাম, তখন আকাশের পশ্চিম দিক অন্ধকার হয়ে এসেছে; মাঝে মাঝে বিদ্যুৎও চমকাচ্ছে। শেষে যখন বোররা গুহালু দেখে গাড়িতে উঠবো ভাবছি, তখনই হঠাৎ আকাশ ভেঙে অঝোর ধারায় বৃষ্টি নামলো। এই টু-পাইস হোটেলে তখনকার মতো মাথা গুঁজতে ঢুকে ওয়েট করতে করতেই সন্ধ্যা হয়ে এলো চারপাশে, কিন্তু বৃষ্টি থামার বদলে বেড়ে গেলো আরো। আমাদের ড্রাইভার বিজয় রাধে বাধ্য হয়েই বলেছিলো, এই রকম বৃষ্টিতে অন্ধকারে পাহাড়ি ল্যান্ডিংয়ে গাড়ি ড্রাইভ করা বিপজ্জনক, তাই আজ রাতটা এখানেই থেকে যাওয়া উচিত; অগত্যা এই পান্ডব বর্জিত এলাকায় হোটেলে নাইট স্টেʼর ডিসিশন। হোটেল মালিক ভদ্রলোক চারটে প্লেটে রুটি আর চিকেন কষা আমাদের সামনে এনে রাখতে রাখতে বললো, "জানতে হ্যায় সাব? ইস পাহাড়ি জঙ্গল মে ভেড়িয়া রহেতা হ্যায়, ম্যায় দো বার দেখা ভেড়িয়ে কো।ʼʼ বিনুদা বেঞ্চে বসেই প্রায় লাফিয়ে উঠে বললেন, "ভেড়িয়া মানে?? নে...ন্নেকড়ে! ওরেব্বাবা; বলো কীহে?ʼʼ তারপর আমার দিকে চেয়ে কপট রাগের গলায় বললেন, "এই....এই যে কিংশুক!! তোমাদের হাতে পড়েই আমাকে এখানে আসতে হয়েছে! কোত্থাও কিচ্ছুনা; হঠাৎ এই পাহাড়ি এঁদো জায়গায় আসবে বলে নেচে উঠলে; আমি তখনই বলেছিলাম পুরী, দার্জিলিং বা কাশি-টাশি যেতে। কি আছে হে এখানে, অ্যাঁ? পাহাড়ি ল্যান্ডিংয়ে পেটের নাড়িভূঁড়ি উলটে গাড়ি চড়ে এখানে এলুম এই একটা গুহা দেখতে; কোনো মানে হয় নাকি? হুঁহ!ʼʼ গজর গজর করতে করতেই চিকেনের ঝোলে চুবিয়ে একটুকরো রুটি মুখে দিলেন বিনুদা, যথারীতি আমরাও খাওয়া শুরু করে দিয়েছি। এখানে আর তেমন কোনো হোটেল বা দোকান কিছু নেই, রাস্তার ওপারে শুধু একটা বিভিন্ন রকম টুপির দোকান দেখেছিলাম, তাও বৃষ্টি নামার আগেই ভদ্রলোক দোকান বন্ধ করে চলে গেছেন। সত্যি বলতে কি, এই এলাকায় আর কোনো সেরকম জনবসতিও চোখে পড়লোনা; লালচে রুক্ষ পাহাড়ের গা ঘেঁষে শুধু এই রকম দুʼতিনটি দোকান হোটেল। বাইরে ঝিমঝিম করে বৃষ্টি পড়ছে একটানা, পাহাড়ের গায়ে দুʼপাশের কফি বাগানের পাতায় পাতায় চড়বড় শব্দ হচ্ছে, মাঝে মাঝে বিদ্যুতের আলোয় হোটেলের ভেতরটাও গোলাপী হয়ে যাচ্ছে। সুব্রত একটুকরো চিকেন মুখে পুরে বললো, "যাই বলিস কিংশুক; বোররা কেভস না এলেই ভালো হতো এখন মনে হচ্ছে। ফালতু টাইম ওয়েস্ট.....ধুসসস!ʼʼ সাথে সাথেই আমাদের সবাইকে চমকে দিয়ে ভাঙা ভাঙা হিন্দিতে কে বলে উঠলো, "এটুকুতেই বলছেন টাইম নষ্ট? আশ্চর্য!ʼʼ কথাটা শোনার সাথে সাথেই আমাদের চোখ চলে গেলো ঘরের কোণের বেঞ্চিতে; আশ্চর্য! এতক্ষণ এই ছোট্ট হোটেলে আছি, কই? এতক্ষণ তো এই লোকটাকে দেখিনি! আমরা আসার পরে এলে তো টের পেতাম, কারণ আমাদের মুখোমুখিই দরজা। কালো রেনকোট পরা বছর চল্লিশেকের একজন ভদ্রলোক, দেখলেই বোঝা যায় দক্ষিণী অর্থাৎ এই এলাকারই। হোটেল মালিক বললেন, "আপনি?ʼʼ ভদ্রলোক খসখসে ভাবলেশহীন গলায় বললেন, "অনেকক্ষণ এসেছি, যখন বৃষ্টি শুরু হয়েছে। খেয়াল করেননি।ʼʼ হোটেল মালিক বললেন, "ওওও, আচ্ছা! হবে হয়তো...আপনাকে কি দেবো স্যার?ʼʼ ভদ্রলোক সেরকমই খসখসে কন্ঠে বললেন, "কিস্যু লাগবেনা আমার, রাতটা কাটিয়ে চলে যাবো।ʼʼ হোটেল মালিক একটু ইতস্তত করে রান্নাঘরের দিকে চলে গেলেন, বুঝলাম ওঁ নিজেও কিছুটা অবাক! সত্যিই; এঁকে তো একবারও এই ঘরে দেখেছি মনে পড়ছেনা। ভদ্রলোক এবার সুব্রতর দিকে চেয়ে বললেন, "আপনি সময় নষ্টর কথা বলছিলেননা? আমি আপনাকে একটা এমন ঘটনা বলতে পারি, যেটা শুনলে আপনারা বুঝবেন সময় নষ্ট কাকে বলে।ʼʼ আমরা কিছুটা হতবাক হয়ে চেয়েছিলাম ওঁর দিকে, ঘরে কেমন একটা অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে; সুব্রত একটা লেগপিসে কামড় দিতে দিতে বললো, "বলুন!ʼʼ ভদ্রলোক মাথার ব্যাকব্রাশ টানটান চুলে আঙুল চালিয়ে বললেন, "এই বোররা গুহালুর কাছেই.... দুʼহাজার দুই সালের ঘটনা। আজকের দিনে.....মানে এই এগারোই ডিসেম্বরই ঘটেছিলো ঘটনাটা; তখনো এখানে এই হোটেলটা ছিলোনা। হঠাৎ ভাইজাগের অন্ধ্র ব্যাঙ্ক লুঠ করে পালালো কুখ্যাত ক্রিমিনাল ভেঙ্কট আইয়ার; লোকটা দাগী আসামী, কিছুতেই ওকে ধরতে পারছিলনা ভাইজাগ পুলিশ। কতবার যে ধরা পড়তে পড়তেও পড়েনি ও, অদ্ভুত ক্ষিপ্রতায় ঠিক বেঁচে যেতো। কি করেনি ভেঙ্কট? মার্ডার, ছিনতাই, কিডন্যাপ, ব্যাঙ্ক রাবার্সিঙ্গ সব কিছু ; সবাই বলতো ভেঙ্কটের নার্ভ স্টিলের মতো। কিন্তু এবারের ব্যাঙ্ক লুঠের সময় পুলিশ আগে থেকেই কোনোভাবে খবর পেয়েছিলো, তাই পুরো ব্যাঙ্কেই একটা ফাঁদ পাতা হয়েছিলো পুলিশের, কিন্তু তবুও-----দশ লাখ টাকা নিয়ে ঠিক পালিয়ে গেলো ভেঙ্কট। কিন্তু হাল ছাড়লেননা পুলিশ অফিসার আনন্দ পাণিকর, তিনি ভেঙ্কটের পিছু নিয়ে এসে পৌঁছলেন আরাকু ভ্যালিতে। সেদিনটা ছিলো পূর্ণিমা, ফুলমুন নাইট; জ্যোৎস্নার আলোয় হঠাৎই অফিসার পাহাড়ের বিপরীত দিকের ঢালু ল্যান্ডিংয়ে দেখতে পেলেন ভেঙ্কটকে! ভুল হওয়ার কথা নয়, পূর্ণিমার চাঁদের রুপোলি আলোয় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিলো ওকে। অফিসার ছুটে গেলেন ওর দিকে, কিন্তু......হঠাৎ পা পিছলে গেলো ওঁর; গড়িয়ে গেলেন পাহাড়ি ল্যান্ডিং বেয়ে! কিন্তু ভগবান মুর্গ্যানের দয়ায় একটুর জন্য বেঁচে গেলেন ওঁ, পাহাড়ি ঢালু ল্যান্ডিংয়ে আটকে গেলো ওঁর দেহটা; অফিসার প্রবল ভয়ে আর যন্ত্রণায় আর্তনাদ করে উঠলেন। একপাশে খাড়াই পাহাড়, অন্যদিকে খাদ, ওঁর থেকে মাত্র তিন-চার ইঞ্চি দূরে; অফিসার বেশ বুঝতে পারছিলেন ওঁর মৃত্যু আসন্ন, এখান থেকে বেঁচে ফেরা এককথায় অসম্ভব; তার ওপর ওঁর হাঁটুতে অসহ্য যন্ত্রণা, বোধহয় গুঁড়ো হয়ে গেছে মালাইচাকি। হাত দিয়ে হাঁটু চেপে ধরে যন্ত্রণায় চিৎকার করছিলেন ওঁ, হু হু করে রক্ত বেড়োচ্ছিলো। এই সময় হঠাৎ ওপর থেকে শুনতে পেলেন একটা চিৎকার, ʼঅফিসার....অফিসার! আপনি কি জীবিত?ʼ অফিসার দাঁত দিয়ে ঠোঁট চেপে ধরলেন যন্ত্রণায়, ওঁর কপালে, গালে ঘাম জমে উঠে কাটা ছড়ার ওপরে চিনচিনে জ্বালা ধরিয়ে দিচ্ছিলো। কোনোভাবে বললেন, ʼকে-ক্কে?ʼ ওপর থেকে পাহাড়ে পাহাড়ে ঘা খেতে খেতে উত্তর এলো, ʼআমি ভেঙ্কট। আপনি ওখানেই ওয়েট করুন, আমি চেষ্টা করছি আপনাকে রেসক্যু করার।ʼ প্রবল যন্ত্রণায় অফিসারের মুখ কুঁচকে যাচ্ছিলো, ওঁ কোনোভাবে শ্বাস টেনে টেনে উত্তর দিলেন, ʼশোনো ভেঙ্কট....! আমি কিন্তু তোমাকে.....রেসক্যু হওয়া মাত্র......অ্যারেস্ট করবো!ʼ ওঁর চিৎকারটা প্রতিধ্বনি হয়ে নিজের কাছেই ফিরে এলো, কেউ কোনো উত্তর দিলোনা। ভেঙ্কট কি তবে পালালো? হাঁটুতে হাত দিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে মুখ বন্ধ করে রাখলেন অফিসার, কারণ আরাকু ভ্যালির এই রাস্তা সূর্য ডোবার পরে মোটেও সুরক্ষিত নয়; এই সময় এখানে বুনো কুকুর ঘুরে বেড়ায় নাকি। বসে থাকতে থাকতে প্রায় আধঘন্টা-চল্লিশ মিনিট কেটে গেলো; আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন অফিসার, হঠাৎ আবার শোনা গেলো ভেঙ্কটের কন্ঠস্বর, ʼঅফিসার! আপনি কি এখনো বেঁচে আছেন? রেসপন্স করুন, নইলে শুধু শুধু সময় নষ্ট করবোনা।ʼ অফিসার চেঁচিয়ে বললেন, ʼহ্যাঁ আছি ভেঙ্কট; কিন্তু আমাকে রেসক্যু করার আগে চিন্তা করে নাও। রক্ষা পাওয়া মাত্র তোমাকে অ্যারেস্ট করবো, ভুলে যেওনা তুমি.....একজন ক্রিমিনাল! তোমার নামে.....অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট আছে।ʼ ভেঙ্কট চেঁচিয়ে বললো, ʼথামুন। আমি দড়ি ফেলছি, এই দড়ি নিজের কোমরে বেঁধে নিয়ে ধীরে ধীরে উঠে আসুন; দড়ির আরেকপ্রান্ত বাঁধা আছে আমার কোমরে!ʼ তারপর দুজনে তিলে তিলে নিজেদের সমস্ত শক্তি দিয়ে ওঠার চেষ্টা চালাতে শুরু করলো; খাড়াই ল্যান্ডিং বেয়ে দুʼপা নেমে আসে ভেঙ্কট, পরক্ষণেই দুʼপা উঠে আসেন অফিসার। মনে রাখবেন, ওরা কেউই পাহাড়ে ওঠার ব্যাপারে পটু ছিলনা খুব একটা; প্রায় একঘন্টার চেষ্টায় অবশেষে অফিসার উঠে এলেন ওপরে। ভেঙ্কট মুচকি হেসে বললো, ʼএবার বলুন....কি করবেন আমাকে?ʼ অফিসার হাঁটুর যন্ত্রণা চেপে জোড় করে ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটিয়ে ʼথ্যাঙ্ক ইউ ভেঙ্কট....ʼ বলেই সজোড়ে একটা ঘুষি চালালেন ভেঙ্কটের মুখ লক্ষ্য করে, কিন্তু ওঁর শরীরে সেই জোড় ছিলোনা; পা টলমল করছে, হাঁটু দিয়ে ক্রমাগত রক্ত ঝরছে, তাই ঘুষিটা হাওয়ায় বেড়িয়ে গেলো ভেঙ্কটের মুখের পাশ দিয়ে। কিন্তু অফিসার নিজে টাল সামলাতে পারলেননা, পা হড়কে পড়ে গেলেন নিচের খাদে! আর----যেহেতু ভেঙ্কটের কোমরের সাথে ওঁর দড়ি একাংশ বাঁধা ছিলো, তাই দুজনেই একসাথে খাদে পড়ে গেলো ওরা। এবার বলুন; সময় নষ্ট কাকে বলে?ʼʼ ভদ্রলোক গল্প শেষ করে সবার মুখের দিকে চাইলেন একবার; বাইরে বৃষ্টি বেড়ে গেছে মনে হয়, তারসাথে বাজের ডাকও। আমিই নীরবতা ভঙ্গ করে বললাম, "ঘটনাটা বেশ ভালোই, সন্দেহ নেই।ʼʼ বিনুদা এতোক্ষণ খাওয়া শেষ করে চুপচাপ সিগারেটে টান দিচ্ছিলেন, এবার হেসে বললেন, "এটা সত্যি ঘটনা?ʼʼ ভদ্রলোক বললেন, "হ্যাঁ, একদম সত্যি।ʼʼ বিনুদা বললেন, "এই ঘটনার আই উইটনেসও নেই নিশ্চয়ই?ʼʼ ভদ্রলোক দুদিকে মাথা নেড়ে বললেন, "নাঃ! ইভিন....আজো কেউ জানেনা যে অফিসার আনন্দ পাণিকর বা ভেঙ্কট কোথায় হারিয়ে গেছিলো।ʼʼ বিনুদা এবার সবকটা দাঁত বের করে একটা ছেলেমানুষি হাসি হেসে একটা মোক্ষম প্রশ্ন করলেন, "ওহহো; তাহলে তো এটাই মানে দাঁড়াচ্ছে যে আপনি সেই অফিসার বা ভেঙ্কট কারোর একটা প্রেতাত্মা, তাইনা? হেঁ হেঁ হেঁ!ʼʼ ভদ্রলোক এই প্রথম ঠোঁটের কোণে অল্প হাসির রেখা খেলিয়ে বললেন, "ঠিক ধরেছেন। আমিই ভেঙ্কট আইয়ার!ʼʼ সাথে সাথেই আমাদের সবাইকে চরম অবাক করে দিয়ে চেয়ার থেকে কর্পূরের মতো উবে গেলেন। আমার পাশের চেয়ারটা ʼদুমʼ করে পড়ে যাওয়ার শব্দ হলো, বোধহয় অজ্ঞান হয়ে গেলেন বিনুদা।।
________________
অলঙ্করণ - সুশোভন রফি
Monday, 10 July 2017
আগে বোঝা যায়না
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
শীত গতপ্রায়
আবার একটা শীত গতপ্রায়; এই শীতেও তুমি জানলেনা হেমন্তের জাতক এক তোমাকে চাইতো অকারণ! মাঘের শেষবেলায় এ শহর অধিক কুয়াশায় ঢেকে যাবে, হু হু উত...
-
ত্রয়োদশী চাঁদের গায়ে ছেলেবেলার আঘাতের দাগ দেখেছি কাল সারারাত, কাল সারারাত চাঁদ তার ছেলেবেলার সমস্ত চোটের দাগ সারাগায়ে মেখে নিয়েছিলো। ...
No comments:
Post a Comment