Sunday, 30 July 2017

অমৃতার জন্য....ক্ষণেক অবসর

কবিতা ১/

এতদিনে চাইলে হঠাৎ,
ভ্রু পল্লবে মিশে ছিলো ক্ষণিক কৌতুক-
যখন তোমার জন্য নিঃসঙ্গ নাবিকের মতো সমুদ্রে ভেসেছি একা সারারাত
কোনো শুকতারা পথ দেখায়নি আমায়;
তখনো তুমি চাওনি একবারও
মাঠের ফসল মরে গেছে,
বসন্ত মিশে গেছে মৃত্যুর মতো শীতরাতে-
লাশকাটা ঘরে যেই নীল আলো একা একা জ্বলে,
তারমতো মৃতচিহ্নে শুয়ে শতাব্দী কাটিয়েছি একা একা,
এতদিনে চাইলে হঠাৎ
ভ্রু পল্লবে মিশে ছিলো ক্ষণিক কৌতুক।
আমি কীকরে এতো লোভহীন হলাম? অজস্র মানুষের মাঝে
স্বাভাবিক মুখে শুনলাম তোমার বিজয়ের কথা,
আমার ব্যর্থতা টুকু ঢাকলাম কবিতার আঁচে
তোমার দিকে চেয়েছিলাম একবার লোভহীন শীতের মতো চোখে-
এতদিনে চাইলে হঠাৎ
ভ্রু পল্লবে মিশে ছিলো ক্ষণিক কৌতুক।
তারপর সারারাত অপদার্থের মতো জ্বলে গেছি তোমার ও চোখে,
যে চাহনি বলে দেয় কৌতুক- নিভৃত শ্মশানের শিবাদের কথা!
এতো লোভহীন আমি হলাম কীকরে অমৃতা?
জনমানুষের ভীড়ে তোমার জয়ের কথা শুনতে শুনতে হাততালি দিয়েছি আমিও,
ফুল আর ফসলের মরে যাওয়া সময়ে হঠাৎ
ভ্রু পল্লবে মিশে গেলো ক্ষণিক কৌতুক!
অমৃতা, এতো লোভহীন চোখ কীকরে পেলাম??
                                                   

কবিতা ২/

আমাকে তুমি ডেকেছিলে একদিন
পাগল করা ব্যথার দিনে আমার;
জানলা ছুঁয়ে ভোরের আলোর কণা
ডেকেছিলে সেই প্রথমকৈশোরে।
শৈশব গিয়ে কৈশোর ছুঁই ছুঁই
সকাল বেলার আলোয় তারই দাগ,
হঠাৎ তুমি ডাকলে আমায় কেন?
নীরব চোখের চাপল্যতা দিয়ে!
পেষ্টহীন দুটো ভোরের বেলার ঠোঁট
দুলবিহীন উন্মুক্ত কান,
রুক্ষচুলে সকাল বেলার রোদ
যেমন শুধু মেয়েবেলাতেই মানায়।
আমাকে তুমি ডেকেছিলে একদিন-
অজস্রকাল ভোর এসেছে তারপর
যদিও সেদিন রোদ্দুরে সোনা ছিলো
যেমন শুধু ছেলেবেলাতেই মানায়।
আমবাগানে সহস্র দিন আরো
ঘুরেছি ফের বেগুনি নীল ফড়িং,
তুমি কিংবা তোমার মেয়ের দল
তোমরা আর আসোনি তারপরে।
সহস্রকাল ভোর এসেছে এমন,
গাছের পাতায় রোদ্দুর লুকোচুরি
সোনা গলে ঝরতে দেখিনি তো!
যেমন শুধু ছেলেবেলাতেই মানায়।
মস্ত বড় পুকুর কালো জল
তোমার ছায়া লুটোয় সেখানেতে
যৌবনের অমৃতা নয় সে মেয়ে,
আমার মনে মেয়েবেলার তুমি।
চপলতার ফাঁকে হঠাৎ দেখা
চোখের কোণে আলোর ঝিলিক নাকি?
দুচোখ তোমার রোদ্দুরের কণা
যেমন শুধু মেয়েবেলাতেই মানায়।
সে আমবাগান আজ অস্তিত্বও নেই,
শেষ প্রমাণটা রিয়েল এস্টেটই নিলো
শৈশব তবে স্বপ্নই শুধু তবে?
কী জানি; হয়তো কূহক মায়াই হবে।
আমাকে তুমি ডেকেছিলে একদিন-
সেই আমবাগান আজ হারিয়ে দুঃখ হয়,
সবকিছু নিয়ে সেটুকুও মুছে গেছে;
যে বাগান শুধু শৈশবেতেই মানায়।।
                                    

কবিতা ৩/

সুনীল, তুমি অমৃতার মুখোমুখি হয়োনা অমন
আমি সহ্য করতে পারিনা!
সুনীল....তুমি প্রেমিক হলে কীকরে?
তোমার পোশাক ফিটফাট,
শার্টের সবকটা বোতামের ঘর আছে;
চেহারায় আভিজাত্য,
গলায় আত্মবিশ্বাসের ছোঁয়া!
তুমি প্রেমিক নও,
প্রেমিকের গলায় এ বিশ্বাস থাকেনা এমন;
তোমার বিশ্বাস শুধু তোমার আভিজাত্যে
অর্থে, চেহারায়।
সুনীল, তুমি প্রেমিক হলে কীকরে?
তুমি সুমন শোনোনা,
কবিতা পড়োনা,
সংস্কৃতির বোধে পাশ্চাত্যের ছাইপাঁশ;
কালো কোট গোলাপের তোড়া
হাঁটু গেড়ে বিদেশী ভঙ্গিতে প্রেম দান
অমৃতার চোখে মুখে তোমার বীরত্বে বিস্ময়!
সুনীল তুমি প্রেমিক হতে পারোনা!
তোমার রক্তে আছে ক্ষণিকের মোহ আর কাম
ওভাবে হাত ধরে হাঁটছো দুজনে ফুটপাথে
আমার হিংসে হয় খুব।
আমার পোশাক তো আজও শুধু পাঞ্জাবী জিন্স,
এখনো ফিটফাট হওয়া হলোনা;
স্পাইক করতে শিখলামনা চুলে
বয়স বেশিই লাগে এলোমেলো দাড়ি আর
চোখের পুরু ফ্রেম চশমা।
আমার চুল এখনো এলোমেলো,
আমি এখনো সুমনই শুনি;
আমি বোধহয় পুরুষ নই
প্রেমিক বলা চলে।
বিশ্বাস করো সুনীল,
অমৃতাকে আমি খুঁজি
ডিলানের গানে,
সুমনের ঝঙ্কারে,
কবিতার অবোধ্যতায়
আর সিগারেট তিনপেগ মদে।
বিদেশী ভঙ্গি নিয়ে
এনরিকিউয়ের গান ঠোঁটে গেয়ে গেয়ে,
তোমার মতোন আমি কালো কোটে
গোলাপের তোড়া হাতে হাঁটুগেড়ে
প্রেম নিবেদনে অক্ষম।
সুনীল, তোমার ছায়া অমৃতার পেছনে হঠাৎ
কলমের তীর আমি লক্ষ্য স্থির করি তোমার বুকের;
অমৃতা বলে ওঠে, "মা নিষাদ, ওকে আমি ভালবাসি!''
কলম নামিয়ে রাখি, তোমরা দুজন হেঁটে যাও পাশাপাশি,
সুনীল; তুমি প্রেমিক হলে কীকরে??

                 ------------------------------

No comments:

Post a Comment

শীত গতপ্রায়

আবার একটা শীত গতপ্রায়; এই শীতেও তুমি জানলেনা হেমন্তের জাতক এক তোমাকে চাইতো অকারণ! মাঘের শেষবেলায় এ শহর অধিক কুয়াশায় ঢেকে যাবে, হু হু উত...