ত্রয়োদশী চাঁদের গায়ে
ছেলেবেলার আঘাতের দাগ
দেখেছি কাল সারারাত,
কাল সারারাত চাঁদ তার ছেলেবেলার
সমস্ত চোটের দাগ সারাগায়ে
মেখে নিয়েছিলো।
সূর্যের তাপ নিয়ে, আলো নিয়ে
মহাকাশে পাথর উল্কা আর
অজস্র আগুনঝরা নক্ষত্রের ভেতর
খেলতে খেলতে চাঁদ চোট পেয়েছিলো
কবে কত শতাব্দী আগে!
কাল রাতে জ্বলন্ত নগ্ন চাঁদ তার
সমস্ত ক্ষত নির্লজ্জের মতো আমার
সামনে তুলে ধরেছিলো;
আমার লুকোনো ক্ষত ভুলিয়ে
দেওয়ার অছিলায়।।
Tuesday, 27 February 2018
চাঁদ শৈশব (গুলজারিশ- ১৩)
Monday, 26 February 2018
বেঁচে থাকা (গুলজারিশ- ১২)
জীবনের মানে জানার লোভে
বেঁচে থাকতে ইচ্ছে হয় বারবার।
আরও কিছুদিন...ভীষণ যন্ত্রণাময়
রোজকার দিনে বেঁচে থাকতে লোভ হয়;
ছাপোষা মানুষদের মতো বেঁচে থাকা!
যদিও বেঁচে থাকাটা কঠিন বড্ড বেশি,
যখন জানি শতাব্দীরা একেকটি
রাতের স্মৃতি শুধু।
তবু জীবনের মানে জেনে নিতে,
তোমাকে আরেকটু চিনে নিতে
আমার আরও কিছুদিন খেটে খাওয়া
মানুষের রোজকার দরাদরি জীবনেতে
ডাল ভাত হয়ে বেঁচে থাকতে লোভ হয়।
গালিব আশীর্বাণী দিয়েছিলেন
কয়েক শতাব্দী আগে;
"হাজার বছর বেঁচে থাকো কবি''!
এ বছর চোখের পলকে কোনো হেমন্ত রাত্তিরের
প্রথম প্রহরের মতো হারিয়ে গেলো।
প্রত্যেকটা বছর তাই যায়;
হাজার বছর বাঁচা হয়তো হবেনা আমার!
পাতারা ঝরে যাচ্ছে আমার সমস্ত
শরীরের ডালপালা থেকে,
বাতিরা নিভছে একে একে;
শেষ প্রহরের অপেক্ষায় আছি বহুদিন
হৃদয়ে প্রেমের দিন ফুরোনোর আগেই
হঠাৎ একদিন কোনো পূর্ণিমা রাত্তিরে
একা একা মরে যাবো কেউ জানবেনা।
তুমি বসে জীবনের কোনো এক প্রান্তসীমায়
বয়স বাড়িয়ে দেবে দ্রুত, কেমন এক
মায়াজালে আচ্ছন্ন করে রেখেছো আমাকে;
সে জাল ছেঁড়ার আগেই মরে যাবো।
শুধু মানুষ বেঁচে আছে কীসের রসদে
রোজকার যন্ত্রণা অশান্তি ঝগড়ার সংসারে,
এইটুকু জেনে নিতে যন্ত্রণা পেতে পেতে
আর সকলের মতো; আমিও আরেকটু
আয়ু নতজানু হয়ে ভিক্ষা চাই।
গালিব আজকে যদি এসে দাঁড়াতেন একবার
এইখানে----- একবার যদি তিনি তোমাকে
দেখতেন চোখ মেলে,
বিশ্বাস করো, তিনিও বন্দি হতেন এই
স্বল্প সময়জালে আচ্ছন্ন হয়ে;
কঠিন ক্ষতবিক্ষত জীবনেতে
বেঁচে নিতে চেয়ে হাহাকার
করতেন তাঁর নতুন নাজমে।।
Wednesday, 21 February 2018
হারিয়ে যায়না কেউ (গুলজারিশ- ১১)
নাম বদলে যাবে কখনো
ঠিকানাও হয়তো পালটাবে,
যেদিন হারিয়ে যাবো চিরতরে
অমোঘ চিতায়;
আমার কন্ঠ শুধু রয়ে যাবে
এখানের রোদ্দুরে, বৃষ্টির ফোঁটা হয়ে
এ বাড়ির ইঁট কাঠ পাথরেতে
আমার কন্ঠ কোনো দেওয়ালের
ফোকরে বা চুনকাম ফাটলে
বন্দি করে রাখবে সময়!
কালের দুরন্ত গতি পৃথিবীটা
আরও একটু বুড়ো করে দেবে এরপর,
যা কিছু এখানে ছিলো
কখনো দুর্যোগে বা ঝড়ের আঘাতে
সেসবও বিলীন হয়ে যাবে।
শুধু অনেক পুরনো কোনো গাছের
ফোকরে, কিংবা হেমন্ত দুপুরে
শুকনো পাতার ঝরে চলায়;
আমার কন্ঠটুকু বন্দি করে
রাখবে সময়।
যা কিছু হারিয়ে যায়,
কখনো তা মনে হয় কালকের কথা
কালের স্রোতের টানে ভেসে চলা
যেন একটিমাত্র রাত ফুরিয়ে
যাওয়ার ইতিহাস।
সেই রাত ফুরোলেও একটি চিহ্ন
শুধু ভোরের শিশিরে মিশে পাতায় পাতায়,
আসলে হারায়না কেউ
এইভাবে পৃথিবীতে ঠিক রয়ে যায়।।
ধূমপান করিনা কোনোদিন (গুলজারিশ- ১০)
ধূমপান করিনা কোনোদিন
তবু অতিথিরা এলে আপ্যায়নের খাতিরেই জিজ্ঞাসা করে উঠি, "দেশলাই আছে?''
এরকম অনেক কিছু ফুঁ দিয়ে নেভাতে ইচ্ছে হয়
কিন্তু সাহস পাইনা! বরং বারুদ এগিয়ে দিই
আগুন জ্বালাতে। পৃথিবীটা আজকাল
জ্বলন্ত সিগারেটের মতো;
ফুঁ দিলে উস্কে ওঠে আগুনের আঁচ!
জ্বলন্ত শহরে বসে জ্বলন্ত রাষ্ট্রযন্ত্রের
গণগণে আগুনে সেঁকতে সেঁকতে
অসহায় কবি আর কী করতে পারে?
আমার তো কন্ঠরোধ দু'চারটে
সম্মান অ্যাওয়ার্ডের আশায়!
আমি তো গোলাম এক রাষ্ট্রীয় খুনীদের
তাদের পদলেহন করে কবি হয়ে উঠি রোজ রোজ।
স্মৃতিচারণে যেভাবে মোছেনা ব্যথা
ফিরে পাওয়া যায়না অতীত,
বরং হৃদয় খুঁড়ে ভুলে যাওয়া বেদনারা
জেগে ওঠে পুনর্বার;
সেভাবেই ফুঁ দিলেই নিভবেনা শহরজোড়া
এই ধিকধিক আগুন
পৃথিবীটা আজকাল জ্বলন্ত
সিগারেটের মতো।।
Tuesday, 20 February 2018
পঞ্চম (গুলজারিশ- ৯)
মনখারাপ করা সেই
মেঘের ছায়ায় ঘেরা টিপটিপ
বৃষ্টির বিকেল,
মনে পরে তোমার, পঞ্চম?
প্যাঁচালো পাহাড়ি পথ শেষে
যেখানে ঝুলে আছে কিছু
বৃষ্টিদিনের নীল মেঘ!
সবুজ পাহাড়ে কেমন ঘোলাটে
হয়ে আসে ভিজে বিকেলটা জুড়ে।
যে পথ শেষ হয়েছে গিয়ে
নিঃসঙ্গ সমতলদেশে।
একলা একলা এক পাহাড়ি স্টেশন ঘিরে
নেমে আসে সন্ধে কেমন!
আজ আমি সেইখানে বহুদিন পরে
একা একা বসে সেই সন্ধের নেমে আসা
দেখলাম অনন্তকাল জুড়ে।
বিকেল পেরিয়ে সাঁঝ নেমে এলো
একা একা আমার বয়সকে আরও
কয়েক দশক বাড়িয়ে দিয়ে।
পঞ্চম, সবকিছু আগের মতোই আছে
যেমনটা ছিলো তখনও।
স্টেশনে থামলো ট্রেন, কিয়ৎক্ষণ
দাঁড়িয়ে একা চলে গেলো ঝড়ের গতিতে।
পচা পাতা মাড়িয়ে খরগোশ পালিয়ে গেলো
সেই পথে; যে পথেতে গেছো তুমি
না ফেরার দেশে পায়ে হেঁটে মুসাফির!
প্রতারক পঞ্চম, একলাই চলে গেলে
সমস্ত লেন দেন হিসেব চুকিয়ে দিয়ে জীবনের
সরাইখানার। আমিই শুধু একা বসে
পাহাড়ি পথের শেষে নিঃসঙ্গ শূন্য স্টেশনে;
সারাটা বিকেল জুড়ে তোমার অপেক্ষায় বৃথা।
তুমি এসে হাত ধরে আমাকেও নিয়ে যাবে
না ফেরার দেশে, সেদিন দুজনে কোনো
এমনই নাম না জানা পাহাড়ি বিকেলে
হুইস্কির গ্লাসেতে চুমুক
বেতের চেয়ারে বসে বাংলো বারান্দায়
আগের মতোই।।
ক্ষমাশীল দেশ (গুলজারিশ- ৮)
এ দেশের হাওয়া অনেক
পরিচ্ছন্ন আজকাল।
এ বড় শান্তির দেশ এখন;
এ দেশ ক্ষমার দেশ,
আইন কানুনের কায়দা কানুনে
ধর্ষণ খুন বা যা কিছুই করুক
যে ছোটখাটো কাজ
তাকে তো অন্যায় বলে
শাস্তি দেওয়ার কথা নয়!
খারাপ খবর গুলো ছাপো
কেন খবর কাগজে?
এসব বিষয় নিয়ে কেন
মাথা ঘামাও অযথা?
এ দেশ ক্ষমার দেশ,
শান্তির দেশ
দেশের গৌরব আর উন্নয়নের
স্রোতে গা ভাসাও তুমিও
আমারই মতোন।
রাস্তা তৈরী হয়,
হাইওয়ে দিয়ে ছোটে ব্র্যাণ্ডেড কার
বছরভর দিওয়ালী বা দশেরা
হাজার একটা অনুষ্ঠান!
এ দেশ হিন্দু দেশ শান্তি ক্ষমার দেশ
জেনো, না পোষালে চলে যাও
সোজা পাকিস্তান!
দরজা খোলাই আছে,
দেশ ছেড়ে চলে যাও
ক্ষমাশীল এই দেশে গলা তোলা
নিষিদ্ধ রাষ্ট্রযন্ত্রের বিরুদ্ধে।
টিভি দ্যাখো, গান শোনো
গর্ব করো নিজধর্ম নিয়ে;
চেয়ে দ্যাখো প্রধানমন্ত্রী কতো
জমকালো স্যুট পরে বিদেশে বেড়ান।
আর্যগরিমার দেশে এর চেয়ে বড় আর
কী আছে মহান অহংকার?
মানুষ বাঁচে বা মরে
এ দেশের হাওয়া অনেক
পরিচ্ছন্ন আজকাল।।
Monday, 19 February 2018
সিদ্ধার্থের একটি রাত (গুলজারিশ- ৭)
এ কেমন রাত?
অন্ধকার!! বড় বেশি
অন্ধকার ঘনিয়েছে
আজ চরাচরে!
বিশাল ব্রম্ভাণ্ডের অতুল সম্পদ,
নক্ষত্রে গ্রহে ছায়াপথে
মুঠো মুঠো ঐশ্বর্য
ছড়িয়ে দিয়েছে কেউ
অবলীলায়।
এই বিশাল অন্ধকারে
বিশাল ঐশ্বর্যের ভীড়ে,
কতদূরে আদিম মহাকাশ
সে অনন্ত সৃষ্টির আদিম
আঁধারে কত ছোট কত ক্ষুদ্র
অগণিত নক্ষত্র গ্রহ।
সেই সুবিশাল ভীড়ে
কত ছোট নীলগ্রহ এক
আমার বসুন্ধরা!
এ আদিম রহস্যমাঝে
কত ক্ষুদ্র নগণ্য
এ কপিলাবস্তু!
তারও চেয়ে নগণ্য
এই মিথ্যা কৃত্রিমতার বিশাল প্রাসাদ।
আমার বিছানায় নারী, যুবতী স্ত্রী
আমার বুকেতে হাত রেখে!
কে বলে নারী শরীর?
আমি তো দেখছি ধীরে ধীরে
লোলচর্ম হবে এই দেহ,
উন্নত স্তনের ঢেউ কুৎসিত হয়ে
যাবে সময়ের আঁচে।
সব তো ক্ষণস্থায়ী, আমিও তেমনই।
যেমন ঘুমায় পাশে কিশোর রাহুল!
এ সাজানো সংসার, এতো কিছু
বিত্ত ও বৈভবের সুখ;
সবকিছু অগোছালো হয়ে যাবে
মহাকালের সেই কালান্তক ঝড়ে।
এসব কিছুই ফাঁকি, বড় বেশি
ক্ষণস্থায়ী;
সংসার, পিতা মাতা সবই হারিয়ে
যাবে কোনো এক অমোঘ মহাদণ্ডের
নীতি মেনে।
এতোকাল সবকিছু ঠিক ছিলো নাকি?
বদলায়নি কোনো কিছু? ওলট পালোট
হলো আজকের হঠাৎ? নাকি সৃষ্টির
আদিম থেকে চলে আসে এ নিয়ম,
এ ভীষণ কঠিন রূঢ় মায়াজাল।
ওগো চন্নো, বন্ধু সারথী
কেন এক লহমায় আমার
চোখেতে সেজে ওঠা
নকলনবিশ এক ভোরের কুয়াশার
মতো ক্ষণিকের সুখের পৃথিবীতে
দুর্ঘটনার মতো এক ফুঁয়ে রোদ
ওঠালে? যে রোদের ছোঁয়া পেলে
কেটে যায় সকল কুয়াশা!
যে রোদ্দুরে চরম কঠিন জ্ঞান
লাভ হয়; আর সত্যের নিষ্ঠুর
কষাঘাতে ভেঙে চুরমার হয়
সাজানো রঙিন সংসার?
এসব কিছুই কী এক দুর্ঘটনা তবে?
দুর্ঘটনা অপরাহ্নে জীবনে প্রথমবার
নগর দর্শনে বের হওয়া?
নাকি সকল কিছু সৃষ্টি হয়ই
ধ্বংসের বীজ বুনে?
চন্নো, তুমি এ কোথায় নিয়ে
এলে আমায়?
এ কেমন রুক্ষ পৃথিবী?
ঘোড়ায় লাগাম দাও,
নাকের দড়িতে টান
দাও একবার;
ঘোড়ার মুখ ফেরাও
রথ ফের নিয়ে চলো
আমার সাজানো সেই
ভঙ্গুর সংসার পৃথিবীর কাছে!
এমন মধ্যরাত আগে তো আসেনি
কোনোদিনও?
জন্ম থেকে সব কিছু অধরাই
ছিলো চিরকাল;
জীবনের শিক্ষা থেকে
আমাকে বিরত রেখেছে কতকাল!
কপিলাবস্তু কুমার আজ সামান্য
সারথীর কাছ থেকে জীবন যে দুর্ঘটনা
সে বোধ লাভ করলো অবলীলায়।
আমি তো চিনিনা কোনও পথ,
যে পথ পৌঁছে দেয় প্রব্রজ্যার কাছে।
ওগো চন্নো, এ কোন সর্বনেশে
রাস্তায় আনলে আমার ঘোড়ায় টানা রথ??
ভোরের স্বপ্ন (গুলজারিশ- ৬)
খুব ভোরে স্বপ্নের ভেতর
কড়া নেড়ে উঠেছিলো দরজায়।
দরজা খুলতে দেখি পরমবন্ধু সস্ত্রীক,
সঙ্গে মেয়েটিও আছে বছর ছয়ের।
এতো ভোরে কী খবর?
বন্ধু হাসে খানিক, "কেদারে গিয়েছিলাম
ফ্যামিলি ট্যুরে;
শেষ চ্যাট তোর সাথে সাতদিন আগে।
তারপর বহুদিন দেখা নেই,
আজ তাই তোর বাড়ি
তোকেই চমকে দিতে
চলে এলাম সব্বাই মিলে!''
"কিন্তু এতোটা ভোরে...''
খানিক হতচকিত আমি;
"বসতেও দেবেননা,
বাইরেই দাঁড়িয়ে থাকবো নাকি?"
সহসা অপ্রস্তুত বন্ধুপত্নীর ঠাট্টায়
হেসে বলি, "হ্যাঁ হ্যাঁ, নিশ্চয়ই!''
সোফায় এলিয়ে বসে দুজনে,
পথশ্রমে দুজনেই ক্লান্ত!
দুরন্ত মেয়েটা ছুটে বেড়ায় খেলে বেড়ায়
সারা ঘরময়।
ঠিক যেন ফুল কিংবা ছোট্ট এক
প্রজাপতির মতো;
থমকে ভাবতে থাকি কেমন সুন্দর এই
সাজানো সংসার!
আমিও বিয়ে করলে, প্রেম করলে
সংসারে মন দিলে এমনই ছোট্ট কোনো
পবিত্র ফুল খেলা করতো
সারা বাড়ি জুড়ে। ঘরের মধ্যে
এক কোমল স্ত্রী থাকতো
খেতে দিতো, যত্ন নিতো
জাপটে ধরতো রাতের বিছানায়।
চায়ের জল চাপাই দুজনের মতো,
মেয়েটির জন্যে বিস্কুট।
বন্ধুর সঙ্গে চেনা ব্র্যাণ্ডের সিগারেটে
টান দিয়ে পুরনো কলেজে ডে'তে
হারিয়ে যাওয়া মুহূর্তের টানে।
বন্ধু হেসে ওঠে ঘরফাটিয়ে
ভরাট গলায়,
বন্ধু পত্নী সেই দুষ্টুমির হাসি হেসে
বন্ধুর পিঠে কিল মারে।
মেয়েটি ঝাঁপিয়ে পরে মায়ের কোলেতে;
কত সুখী স্বপ্নের মতো এক সাজানো সংসার!
অ্যালার্মের চিৎকারে হঠাৎ স্বপ্ন ভেঙে যায়,
ঘুম ভেঙে ঘড়িতে সকাল সাড়ে সাতটা বাজে।
তাহলে স্বপ্নই ছিলো, বাস্তব নয়?
স্বপ্নই হবে নির্ঘাত!
কাল রাতে নিউজ চ্যানেলে
কেদারনাথেতে ধ্বস নেমেছে শুনলাম বান এসে।
কাল রাতে শুনলাম; কেদারনাথেতে কিছু
ভোরের স্বপ্নের মৃত্যু হয়েছে চিরতরে।।
এতো দেরী করলে কেন আজ? (গুলজারিশ- ৫)
গুলজারিশ- ৫
সমস্তদিন এক বন্ধুবিহীন
স্বজনবিহীন হেমন্তের দীর্ঘতম
সকাল জুড়ে দুপুর জুড়ে
আমি একাকীত্বের এই হু হু করে
বয়ে যাওয়া হাহাকার করে মরা
উত্তুরে হাওয়ায় হেঁটে বেড়িয়েছি একা একা!
অনেক দুরেতে চলে গেছি, সারাদিন----- দিকভ্রান্তের মতো হেঁটে গেছি এলোমেলো
ক্লান্ত পায়ে!!
ঘরের ভেতরে খাঁ খাঁ ধূ ধূ নিঃসঙ্গতা
এই হেমন্তের জ্বালিয়ে পুড়িয়ে খাক করে দেওয়া
সর্বনাশা উত্তুরে হাওয়ায়,
আমার বুকেতে জমা শুকনো পাতা আর
ডালপালা ঘিরে বারবার
জ্বলে ওঠে নীল দাবানল।
বিশাল খাঁ খাঁ বাড়ির নিঃসঙ্গতা দূরে ঠেলে
এগিয়ে চললাম প্রশস্ত রাজপথে মফস্বলের
অলিগলি চেনা অচেনা মানুষ কুকুর বেড়াল
বাজার মার্কেট দোকান পসার সব ফেলে!
তারপর সন্ধের মুখে, জমাট ধোঁয়াশা
যখন ঘনিয়ে উঠছে স্ট্রিটলাইটের নীচে;
তখন টলোমলো পায়ে চাবি খুলে
ঢুকলাম ঘরে,
ঝাপসা ঘোলাটে চোখ
গলা বুক জ্বালাচ্ছে
দাবানল নাকি অ্যালকোহল?
বহুদিনের পরিচিত ছন্নছাড়া
এলোমেলো ঘরের মেঝেয়
উপুড় হয়ে পরে থাকা কবিতার বই
জানলা গলে আসা উত্তুরে হাওয়ায়
তার পাতাগুলো ফুরফুর করে
উলটে যেতে যেতে বড়
উষ্ণতা মাখিয়ে কন্ঠে কোনো কিশোরীর
মতো অভিমানে বলে ওঠে,
"এতো দেরী করলে কেন আজ??''
-দেবসেনাপতি
Sunday, 18 February 2018
কবি বিকাশ সরকারের মৃত্যুতে
কবির লাশের ওপর ভর দিয়ে
সন্ধে জুড়ে কবিতা শোনানো....
এমন কবিতা তোমরা লেখো কেন?
যে কবিতা কবির শেষ কবিতাকে
ছুঁয়ে দিয়ে অসংখ্য কন্ঠ হয়ে
হৃদরোগ আক্রান্ত ছিন্নভিন্ন যন্ত্রণার
মুখকে উপেক্ষা করে!
হারানো শতাব্দীতে এমন কবিতারাই
ইহুদির মতো নাৎসির দেশলাইয়ে
জ্বলে পুড়ে খাক হয়ে যেতো!
যে কবিতা প্রেমের, যেইসব কবিতারা
হৃদয়ের গল্প শোনায়;
হৃদরোগে ফেটে পরা হৃদয়ের গল্প
তারা উপেক্ষা করে যায়!
কবিতা কী নয় তবে বাস্তববাদী?
বুলেটের মুখে লাশ- অবিসংবাদী!
যন্ত্রণার লাশ ছুঁয়ে যে হৃদয় ছুঁয়ে যেতো
হৃদয়ের গভীর সব আবেগের কথা;
সে হৃদয় কবিতা পাঠের এক পরিহাস মঞ্চে
খানখান হয়ে গেলো।।
হিসেব (গুলজারিশ- ৪)
এখনো তোমার কাছে জমে আছে
আমার কিছু হারানো সম্পদ!
বৃষ্টিতে ভিজে কলেজ স্ট্রিটের কিছু বিকেল
এখনো জমে আছে তোমার কাছে।
প্রথম যৌবনের পাগলামি;
কোনো এক চিঠি লেখার রাত
জমে আছে একইরকম।
সেইসব দিন রাত বিকেলকে ফিরিয়ে দাও
আমার কাছে, আমার পুরনো সম্পদ যা
কিছু ছিলো সব কিছু পাঠিয়ে দিও
ক্যুরিয়ারে।
কিছু পাতাও জমে আছে, তাইনা?
হাতে হাত ধরে হাঁটা, বোলপুর
সোনালি খোয়াই; রবিঠাকুরের সেই
শান্তিনিকেতন।
শীতের শুকনো সোনাঝুরি পাতা
সারাটি বিকেল ধরে ঝরে গেলো
টুপটাপ ঝরে গেলো আমাদের
কাঁধে চুলে শরীরকে ঘিরে।
সেইসব শুকনো পাতা কিছু
এখনো লুকিয়ে কাঁপে তোমার দেরাজে
সেইসব পাতাদের ফিরিয়ে দাও
আমার কাছে, আমার পুরনো সম্পদ যা
কিছু ছিলো সবকিছু পাঠিয়ে দিও
ক্যুরিয়ারে।
গড়িয়াহাটার মোড়ে বাসের অপেক্ষায়
একই ছাতার নীচে বর্ষা দুপুরে
দুজনেই আধভেজা;
সেই বৃষ্টির কিছু ফোঁটা
এখনো জমানো আছে
তোমার দেরাজে।
সেইসব ফোঁটাকেই ফিরিয়ে দাও
আমার কাছে, আমার পুরনো সম্পদ যা
কিছু ছিলো সব কিছু পাঠিয়ে দিও
ক্যুরিয়ারে।
অথবা পূর্ণিমা রাত
তোমার ঠোঁটের কোণে
ধিকধিক সিগারেট,
আমার শরীর ঘিরে তোমার আদর
তোমার পুরুষ বুকে চেনা তিল
খুঁজে দেখা শার্টের বোতাম খুলে।
সেই রাত, অন্ধকার চাঁদের আলোয়
হাতের তালুতে কাঁচা মেহেন্দির
টক গন্ধ;
সেই সত্যি মিথ্যে খোঁজা
অর্থহীন পাগলামি তোমার
দেরাজে কেন রেখেছো লুকিয়ে?
সেইসব পাগলামি ফিরিয়ে দাও
আমার কাছে, আমার পুরনো সম্পদ যা
কিছু ছিলো সব কিছু পাঠিয়ে দিও
ক্যুরিয়ারে।
এখন আমিও খুব হিসেবি জেনে রেখো
সমস্ত ধার শোধ করে নেবো
আঙুলে গুণেই,
তারপর তোমার কাছে
গচ্ছিত আমার সমস্ত সম্পদ
সমস্ত অক্ষর স্মৃতির কোলাজ
দাউ দাউ জ্বালিয়ে নেবো
অমোঘ চিতায়,
তাদের সবার সাথে
শাশ্বত শান্তিতে আমিও
জ্বলবো তখন।।
কিছু মিথ্যে (গুলজারিশ- ৩)
কিছু নকল, কিছু মিথ্যে তোমাকেও পাঠাবো
একদিন.....!
কিছু মিথ্যে প্রেমের কথা
যেমনটা আদতে ভাবিনা,
তেমন নকল কিছু তোমাকেও
পাঠাবো একদিন!
যেভাবে সমাজের এই
বিশিষ্ট বর্গ আর রাজনৈতিক বুদ্ধিজীবী
ধান্দাবাজ নেতাদের নিয়মিত
স্তাবকবৃন্দের দলে আমি!
যেভাবে নিয়মিত পদলেহন করি
নকলনবিশি কথা দিয়ে রোজ রোজ,
আমিও গোলাম হবো মিথ্যে তোমার,
কিছু মিথ্যে কথা তোমাকেও বলবো
একদিন!
যেমন; আমাকে নির্বাসন দিলে
বাঁচবোনা তোমাকে ছাড়া।
এইভেবে থামলাম কিছুক্ষণ,
বুকের উপরে স্বরযন্ত্রের কাছে
কার্বন পেপার রেখে জোরে জোরে
বললাম "তোমাকেই ভালবাসি শুধু!
তোমাকে ছাড়া বেঁচে থাকা ভীষণ
অসম্ভব জেনো!!"
সাদা কাগজ যেমন শুষে নেয়
সমস্ত নীল কালো কার্বনে চোবানো
অক্ষর; কন্ঠস্বর তেমন ভাবে
ছড়ালোনা ঠিক
কিন্তু কাল রাত্রির সমস্ত তারাদের
সাদা আর সোনালি বুক
কার্বনে ছোপানো অক্ষরে নীল রঙ নিলো!
সারাটা আকাশ কাল কার্বন রঙের
দাঁড়ি কমা সেমিকোলনে ভরে গিয়েছিলো,
কিছু মিথ্যে ছড়িয়ে গিয়েছিলো আকাশেতে
তোমাকে ছাড়া নাকি বেঁচে থাকা খুব অসম্ভব!
তাহলে কেমন করে বেঁচে আছি এখনো
বিরামহীন ভাবে?
তিনবেলা ভাত, প্রায় প্রতিদিন মাছ
সপ্তাহান্তে একদিন মাংসও।
দিব্যি মিথ্যে দিয়ে কেমন বদলে
দিলাম তবু অগনিত তারাদের রঙ!
কিছু নকল কিছু মিথ্যে, তোমাকে
পাঠাই অনর্থক।।
চুরি যাওয়া কবিতা (গুলজারিশ- ২)
কাল রাতে আমার সদ্য লেখা
কবিতা চুরি করে নিয়েছিলো
কেউ!
এখানেই ছিলো, চোখের সামনে
রাতের অন্ধকার লেখার টেবিলে
মধ্যরাতে নিদ্রিত শহরে
লেখার টেবিল থেকে
আমার সদ্য লেখা কবিতা জানিনা
কীকরে চুরি গিয়েছিলো!!
টেবিলের ওপরেই ছিলো
কবিতা,
হুইস্কির গ্লাসের নীচে
রেখেছিলাম সদ্য ভূমিষ্ঠ কবিতাকে।
মধ্যরাতে কার টেলিফোন
বেজে উঠেছিলো ঝনঝন;
ঘরের ভেতরে গেছিলাম।
তারপর ফিরে এসে দেখলাম
আমার স্বপ্নের কবিতা,
সদ্য জরায়ু ছিঁড়ে মাটিতে
প্রসবিত নতুন কবিতা
চুরি গেছে কীভাবে
এই মধ্যরাতে নিদ্রিত শহরে
লেখার টেবিল থেকে।
অনেক খুঁজেছি তাকে
কাবার্ডের নীচে,
মেঝেতে কিংবা টেবিলের তলায়।
তারপর রাত বেড়ে গেলো
হুইস্কির গ্লাস খালি,
অ্যাশট্রেতে ছ'সাতটা
পোড়া সিগারেট!
বোতল অর্ধেক ফাঁকা
কয়েক পেগ নিরুদ্দেশ
হয়েছে কোথাও
কোনো যকৃতের
সর্বনাশ করে দিতে!
তখন ঝাপসা চোখে
টলমলে পায়ে,
চেয়ে দেখি খোলা ছাদে
পিচকালো উন্মুক্ত আকাশ জুড়ে
চুরি যাওয়া কবিতা তার
আমার হাতে গড়ে দেওয়া সমস্ত
দাঁড়ি কমা সেমিকোলন প্রতিটি অক্ষর
আকাশে ছড়িয়ে দিয়ে ছেয়ে গেছে
মহাকাশে ব্রম্ভাণ্ড জুড়ে!
নক্ষত্রে গ্রহে কিংবা ছায়াপথ বেয়ে
মুঠো মুঠো ছড়িয়ে দিয়েছে
প্রতিটি অক্ষর।
থামলাম কিছুক্ষণ,
কাল রাতে আমার সদ্য লেখা
কবিতা চুরি গিয়েছিলো মহাকাশে।।
চিলের ছাদের ঘরে (গুলজারিশ- ১)
চিলের ছাদের ঘরে এখন আর কেউ থাকেনা,
কবে থেকে বন্ধ পরে আছে।
যে চব্বিশটা সিঁড়ি ওই ঘর অবধি যেতো, ওইসব সিঁড়িতে ধুলো জমেছে আজকাল;
কেউ আর যায়না!
ওই ঘরে আমার অজস্র ধূসর স্মৃতি ভীড় করে আছে,
গতজন্মের কোনো কিশোরবেলার স্বপ্নের মতো।
এলোমেলো খেলনাপাতি
একটা পুরনো বাক্সে ভরে রেখেছিলাম কবে!
তার মধ্যে কতক গিয়েছিলো ভেঙেচুরে,
আর কিছু এদিক ওদিক কোথায় হারিয়ে গিয়েছিলো
কালের চোরাস্রোতে!
ছেলেবেলার সবচেয়ে দামী
সম্পদ---
পাতলা চটি একগোছা ইন্দ্রজাল কমিকস,
কিছুর মলাট ছেঁড়া হাতে হাতে ঘুরে;
কয়েকটা সেযুগের শুকতারা, সন্দেশ; সদ্য বেরুনো হাঁদা ভোঁদা বাঁটুলের বই
সাদা কালো গোলাপির ভিড়
পাতায় পাতায়।
কে এক বন্ধু ছিলো, জীবনের সায়াহ্নে নামও মনে পড়েনা এখন;
তখন নিকটে ছিলো---রোজ দুপুরে হানা ওইঘরটাতে
ইন্দ্রজাল কমিকস আর
চুরি করা আমচুরের লোভে।
ওইঘরের সামনে সেই ছাদটা
এখনো আছে,
আমার মায়ের শাড়ি, দিদির পোশাক রোদ্দুরে কখনো
মেলা থাকতো সারা দিন ধরে।
সে আমার কোন শৈশবের কথা!
এখন ওই ছাদ একা একা পরে
আছে;
চিলেকোঠা বন্ধ বহুদিন, চাবিও হারিয়েছে কোথাও!
ওই ছাদ, যেখানে চাঁদের আলোয় কত রাত সন্ধে জুড়ে
দাদাইয়ের কোল ঘেঁষে ভাইবোনেদের ভিড়;
বড়দাদু ধরাতেন অম্বুরি তামাক
দিদার হাতে সেকেলে একটা
হ্যারিকেন---সেটাও কতবছর
বন্দি ওই ঘরটায়, গাঢ় হলুদ
আলো কাঁপা কাঁপা দিদার চশমায়;
চাঁদের সাদাটে আলো
আর হ্যারিকেনের আলো
মিলে গিয়ে বড় বড় ছায়া ছাদ জুড়ে,
মাঝে মাঝে দক্ষিণে বা পূবে হাওয়া সুপুরিগাছের
মাথায় মাথায় তোলপাড়!
আকাশ জুড়ে নক্ষত্রেরা
টিমটিম করে জ্বলে যেতো সারারাত! দিদা বলতো, তাকিয়ে থাকলে পরী আর চাঁদের বুড়ি দুই'ই দেখা দেয়!
দাদাইয়ের গলায় মায়াময়
কবেকার হেমন্ত মুখুজ্জের গান;
অন্য জন্মের কোনো গল্প
মনে হয়!
আমার বাড়ির থেকে হাফ মাইল হাঁটা পথে অতিথিশালা;
আমেরিকা থেকে কখনো নাতি এলে সেখানেই থেকে যায়!
অতিরিক্ত ঘরের অভাবে!!
সে ছেলে যতবার আসে
মনে হয় অন্য কোনো মানুষ;
এভাবে চোখের সামনে
তার চেহারা বদলে যায় দিনে দিনে,
আমার কোলেতে চড়ে যে ছেলেটা আকাশের তারা দেখে
পিটার প্যানকে খুঁজতো,
সেই ছেলে হঠাৎ যেন
অনেকটা বড় হয়ে গেলো;
মাঝে মাঝে মনে হয়
একই জন্মে আমি অনেক
জন্ম পার হলাম কীভাবে?
ছেলেমেয়েরা কোনোদিনও
চিলের ছাদের ঘরে আসেনি
আমার! আমার স্বপ্নের সেই
চিলের ছাদের ঘর; ওদের
স্বপ্নের হতে পারেনি কোনোদিন!
ওরা থাকে নীচতলায়
যেখানে ড্রয়িংরুমে
এখনো আমার মায়ের
সাধের হারমোনিয়াম
রাখা আছে!
কখনো কখনো
সন্ধের মুখে
চুল বেঁধে সিঁদুর পরে
হারমোনিয়ামটা টেনে
মা গাইতো রবীন্দ্রনাথ
বা নজরুলের গান;
কখনো বা অতুলপ্রসাদ!
এই ধুলো পড়া হারমোনিয়াম
কোনোদিন বড় বেশি প্রিয়
ছিলো মা'র!
এখন রিডগুলো নষ্ট হয়েছে
বহুদিনের অযত্নের ফলে,
বাজানোও যায়না আর
বৌমা তো কবে থেকে বলে
এইবারে বেচে দিলেই হয়
কিলোদরে!
ওই সেই ড্রয়িংরুম, বেশ
করে অ্যাকোরিয়াম আর
দামী দামী আসবাবে সাজিয়ে নিয়েছে বটে
দুই ছেলে আর বৌমারা!
ওইখানে কোনোদিন আমাকে ন্যাংটো করে
স্নানের আগে সারাগায়ে তেল মাখাতো
আমার মা।
ছোট্ট সে কোলের ছেলে....
সেসব অন্য জন্মের কথা!
বড়ছেলের যে ঘরটা
কিছুদিন আগে রঙ হলো,
পুরনো আসবাব আর সেভাবে কিছুই
অবশিষ্ট নেই।
ওইঘরে একদিন উল বুনতো
চুল বাঁধার সময় গুণ গুণ গান গাইতো
জ্বরের রাতে ছোটছেলের মাথায়
জলপট্টি দিতো আমার স্ত্রী!
আমি তো একাই এখন বছর তিন হলো,
একা বুড়ো মানুষের অতবড় ঘরে কী
দরকার? এখন একাই থাকি
দুইছেলের শৈশব জড়িয়ে রয়েছে
যে ঘরে, সেইঘরে আমার বসবাস!
বাড়ির বাগানের দিকে
যে ঘরটা খালি পরে আছে
কতকাল,
একটা আলোও জ্বলেনা
কোনো সন্ধ্যায়!
ওইঘরে কখনো থাকতো অঞ্জলীমাসি।
আমাদের ভাইবোনেদের মানুষ
করতে গিয়ে হিমশিম খেয়েছিলো বুড়ি,
কত যে বয়স ছিলো
ঈশ্বর জানেন শুধু!
মাথায় একটিচুলও পাকেনি
শেষদিন অবধি; বেঁটে খাটো
মানুষটি আমার বাবারও মাসি,
আমাদেরও মাসি!
এতগুলো বছরের সাক্ষী
সে বুড়ির, একটি চিহ্নও নেই
এ বাড়ির কোনো কোণাতেও।
ওই ঘর এখন স্টোর রুম
ছেলেদের কৃপায়।
এখন দুপুরবেলা কোনো কোনো
দিন হঠাৎই, হঠাৎ ফিরেই আসে
আমার শৈশব ওই ছাদে;
আমার ছেলেবেলা অন্য এক জন্মের
ঘুমোচ্ছে ওই চিলেকোঠায়!
বন্দি আছে এক বছর বারোর
কিশোর চিরতরে ওই ঘরের
প্রতিটি কোণায়!
ওই সেই ঘর, যে ঘরে কখনো
এক এলোমেলো বিকেলে
প্রথম কৈশোরে প্রথম চুমুর স্বাদ
আলতো করেই ছোঁয়া আরেক
অধর, ছেলেবেলার সেই ফ্রক পরা
খেলার সাথীর চেহারাও স্পষ্ট নয়
আজ আর প্রতারক স্মৃতির খাঁচায়।
চিলের ছাদের ঘরে এখন আর কেউ থাকেনা
কবে থেকে বন্ধ পরে আছে।।
শীত গতপ্রায়
আবার একটা শীত গতপ্রায়; এই শীতেও তুমি জানলেনা হেমন্তের জাতক এক তোমাকে চাইতো অকারণ! মাঘের শেষবেলায় এ শহর অধিক কুয়াশায় ঢেকে যাবে, হু হু উত...
-
ত্রয়োদশী চাঁদের গায়ে ছেলেবেলার আঘাতের দাগ দেখেছি কাল সারারাত, কাল সারারাত চাঁদ তার ছেলেবেলার সমস্ত চোটের দাগ সারাগায়ে মেখে নিয়েছিলো। ...