Monday, 26 February 2018

বেঁচে থাকা (গুলজারিশ- ১২)

জীবনের মানে জানার লোভে
বেঁচে থাকতে ইচ্ছে হয় বারবার।
আরও কিছুদিন...ভীষণ যন্ত্রণাময়
রোজকার দিনে বেঁচে থাকতে লোভ হয়;
ছাপোষা মানুষদের মতো বেঁচে থাকা!
যদিও বেঁচে থাকাটা কঠিন বড্ড বেশি,
যখন জানি শতাব্দীরা একেকটি
রাতের স্মৃতি শুধু।
তবু জীবনের মানে জেনে নিতে,
তোমাকে আরেকটু চিনে নিতে
আমার আরও কিছুদিন খেটে খাওয়া
মানুষের রোজকার দরাদরি জীবনেতে
ডাল ভাত হয়ে বেঁচে থাকতে লোভ হয়।
গালিব আশীর্বাণী দিয়েছিলেন
কয়েক শতাব্দী আগে;
"হাজার বছর বেঁচে থাকো কবি''!
এ বছর চোখের পলকে কোনো হেমন্ত রাত্তিরের
প্রথম প্রহরের মতো হারিয়ে গেলো।
প্রত্যেকটা বছর তাই যায়;
হাজার বছর বাঁচা হয়তো হবেনা আমার!
পাতারা ঝরে যাচ্ছে আমার সমস্ত
শরীরের ডালপালা থেকে,
বাতিরা নিভছে একে একে;
শেষ প্রহরের অপেক্ষায় আছি বহুদিন
হৃদয়ে প্রেমের দিন ফুরোনোর আগেই
হঠাৎ একদিন কোনো পূর্ণিমা রাত্তিরে
একা একা মরে যাবো কেউ জানবেনা।
তুমি বসে জীবনের কোনো এক প্রান্তসীমায়
বয়স বাড়িয়ে দেবে দ্রুত, কেমন এক
মায়াজালে আচ্ছন্ন করে রেখেছো আমাকে;
সে জাল ছেঁড়ার আগেই মরে যাবো।
শুধু মানুষ বেঁচে আছে কীসের রসদে
রোজকার যন্ত্রণা অশান্তি ঝগড়ার সংসারে,
এইটুকু জেনে নিতে যন্ত্রণা পেতে পেতে
আর সকলের মতো; আমিও আরেকটু
আয়ু নতজানু হয়ে ভিক্ষা চাই।
গালিব আজকে যদি এসে দাঁড়াতেন একবার
এইখানে----- একবার যদি তিনি তোমাকে
দেখতেন চোখ মেলে,
বিশ্বাস করো, তিনিও বন্দি হতেন এই
স্বল্প সময়জালে আচ্ছন্ন হয়ে;
কঠিন ক্ষতবিক্ষত জীবনেতে
বেঁচে নিতে চেয়ে হাহাকার
করতেন তাঁর নতুন নাজমে।।
                           

No comments:

Post a Comment

শীত গতপ্রায়

আবার একটা শীত গতপ্রায়; এই শীতেও তুমি জানলেনা হেমন্তের জাতক এক তোমাকে চাইতো অকারণ! মাঘের শেষবেলায় এ শহর অধিক কুয়াশায় ঢেকে যাবে, হু হু উত...