গুলজারিশ- ৫
সমস্তদিন এক বন্ধুবিহীন
স্বজনবিহীন হেমন্তের দীর্ঘতম
সকাল জুড়ে দুপুর জুড়ে
আমি একাকীত্বের এই হু হু করে
বয়ে যাওয়া হাহাকার করে মরা
উত্তুরে হাওয়ায় হেঁটে বেড়িয়েছি একা একা!
অনেক দুরেতে চলে গেছি, সারাদিন----- দিকভ্রান্তের মতো হেঁটে গেছি এলোমেলো
ক্লান্ত পায়ে!!
ঘরের ভেতরে খাঁ খাঁ ধূ ধূ নিঃসঙ্গতা
এই হেমন্তের জ্বালিয়ে পুড়িয়ে খাক করে দেওয়া
সর্বনাশা উত্তুরে হাওয়ায়,
আমার বুকেতে জমা শুকনো পাতা আর
ডালপালা ঘিরে বারবার
জ্বলে ওঠে নীল দাবানল।
বিশাল খাঁ খাঁ বাড়ির নিঃসঙ্গতা দূরে ঠেলে
এগিয়ে চললাম প্রশস্ত রাজপথে মফস্বলের
অলিগলি চেনা অচেনা মানুষ কুকুর বেড়াল
বাজার মার্কেট দোকান পসার সব ফেলে!
তারপর সন্ধের মুখে, জমাট ধোঁয়াশা
যখন ঘনিয়ে উঠছে স্ট্রিটলাইটের নীচে;
তখন টলোমলো পায়ে চাবি খুলে
ঢুকলাম ঘরে,
ঝাপসা ঘোলাটে চোখ
গলা বুক জ্বালাচ্ছে
দাবানল নাকি অ্যালকোহল?
বহুদিনের পরিচিত ছন্নছাড়া
এলোমেলো ঘরের মেঝেয়
উপুড় হয়ে পরে থাকা কবিতার বই
জানলা গলে আসা উত্তুরে হাওয়ায়
তার পাতাগুলো ফুরফুর করে
উলটে যেতে যেতে বড়
উষ্ণতা মাখিয়ে কন্ঠে কোনো কিশোরীর
মতো অভিমানে বলে ওঠে,
"এতো দেরী করলে কেন আজ??''
-দেবসেনাপতি
No comments:
Post a Comment