Monday, 19 February 2018

ভোরের স্বপ্ন (গুলজারিশ- ৬)

খুব ভোরে স্বপ্নের ভেতর
কড়া নেড়ে উঠেছিলো দরজায়।
দরজা খুলতে দেখি পরমবন্ধু সস্ত্রীক,
সঙ্গে মেয়েটিও আছে বছর ছয়ের।
এতো ভোরে কী খবর?
বন্ধু হাসে খানিক, "কেদারে গিয়েছিলাম
ফ্যামিলি ট্যুরে;
শেষ চ্যাট তোর সাথে সাতদিন আগে।
তারপর বহুদিন দেখা নেই,
আজ তাই তোর বাড়ি
তোকেই চমকে দিতে
চলে এলাম সব্বাই মিলে!''
"কিন্তু এতোটা ভোরে...''
খানিক হতচকিত আমি;
"বসতেও দেবেননা,
বাইরেই দাঁড়িয়ে থাকবো নাকি?"
সহসা অপ্রস্তুত বন্ধুপত্নীর ঠাট্টায়
হেসে বলি, "হ্যাঁ হ্যাঁ, নিশ্চয়ই!''
সোফায় এলিয়ে বসে দুজনে,
পথশ্রমে দুজনেই ক্লান্ত!
দুরন্ত মেয়েটা ছুটে বেড়ায় খেলে বেড়ায়
সারা ঘরময়।
ঠিক যেন ফুল কিংবা ছোট্ট এক
প্রজাপতির মতো;
থমকে ভাবতে থাকি কেমন সুন্দর এই
সাজানো সংসার!
আমিও বিয়ে করলে, প্রেম করলে
সংসারে মন দিলে এমনই ছোট্ট কোনো
পবিত্র ফুল খেলা করতো
সারা বাড়ি জুড়ে। ঘরের মধ্যে
এক কোমল স্ত্রী থাকতো
খেতে দিতো, যত্ন নিতো
জাপটে ধরতো রাতের বিছানায়।
চায়ের জল চাপাই দুজনের মতো,
মেয়েটির জন্যে বিস্কুট।
বন্ধুর সঙ্গে চেনা ব্র‍্যাণ্ডের সিগারেটে
টান দিয়ে পুরনো কলেজে ডে'তে
হারিয়ে যাওয়া মুহূর্তের টানে।
বন্ধু হেসে ওঠে ঘরফাটিয়ে
ভরাট গলায়,
বন্ধু পত্নী সেই দুষ্টুমির হাসি হেসে
বন্ধুর পিঠে কিল মারে।
মেয়েটি ঝাঁপিয়ে পরে মায়ের কোলেতে;
কত সুখী স্বপ্নের মতো এক সাজানো সংসার!
অ্যালার্মের চিৎকারে হঠাৎ স্বপ্ন ভেঙে যায়,
ঘুম ভেঙে ঘড়িতে সকাল সাড়ে সাতটা বাজে।
তাহলে স্বপ্নই ছিলো, বাস্তব নয়?
স্বপ্নই হবে নির্ঘাত!
কাল রাতে নিউজ চ্যানেলে
কেদারনাথেতে ধ্বস নেমেছে শুনলাম বান এসে।
কাল রাতে শুনলাম; কেদারনাথেতে কিছু
ভোরের স্বপ্নের মৃত্যু হয়েছে চিরতরে।।
                                      

No comments:

Post a Comment

শীত গতপ্রায়

আবার একটা শীত গতপ্রায়; এই শীতেও তুমি জানলেনা হেমন্তের জাতক এক তোমাকে চাইতো অকারণ! মাঘের শেষবেলায় এ শহর অধিক কুয়াশায় ঢেকে যাবে, হু হু উত...